images

আবহাওয়া

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এই ১০ দেশে

ফিচার ডেস্ক

০৭ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বরং এক নির্মম বাস্তবতা। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছরই ভাঙছে তাপমাত্রার পুরোনো সব রেকর্ড। শীতপ্রধান দেশগুলোতেও এখন গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং বিভিন্ন জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ২০২৬ সালের তথ্য ও বার্ষিক গড় তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত ১০টি দেশের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো-

১. বুর্কিনা ফাসো

পশ্চিম আফ্রিকার এই ল্যান্ডলকড বা ভূবেষ্টিত দেশটি বর্তমানে বার্ষিক গড় তাপমাত্রার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে। বছরের প্রায় ৯ মাসই এই দেশের ওপর দিয়ে শুষ্ক ও ধুলোময় হাওয়া বয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে এখানকার তাপমাত্রা নিয়মিত ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

২. মালি

তালিকার ওপরের দিকেই রয়েছে আফ্রিকার আরেক দেশ মালি। দেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলজুড়ে রয়েছে সাহারা মরুভূমি। বছরের প্রায় আট মাসই এখানকার গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে। তীব্র খরা এবং ধুলোঝড়ের কারণে মালির মরু অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা অনেক সময় ৪৬ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে।

1774338354-37c80864f3e046716b9edc5edb8f54c4

৩. সেনেগাল

আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত হলেও সেনেগালের অভ্যন্তরীণ সমভূমি অঞ্চলের তাপমাত্রা অত্যন্ত চড়া। সাহারা মরুভূমির কাছাকাছি হওয়ায় বছরের দীর্ঘ সময় দেশটিতে তীব্র শুষ্ক মৌসুম স্থায়ী হয়। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক জলবায়ু রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রীষ্মের সময় এখানকার অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪. মৌরিতানিয়া

উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকাই মরুভূমি। সাহারার তীব্র রোদের কারণে মৌরিতানিয়ার তাপমাত্রা অনবরত বাড়তে থাকায় দেশটির যাযাবর জনগোষ্ঠীর বড় অংশই উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে এখানকার মরু অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করে।

ecb8233fbbf83423a27a89e8457ed8c6-64351ce5056e1

৫. জিবুতি

পূর্ব আফ্রিকার ছোট এই দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান 'থার্মাল ফার্নেস' বা আগুনের চুল্লি বলা চলে। সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া কেবল গরমই নয়, একই সঙ্গে চরম আর্দ্র। সারা বছরই এখানে তীব্র ভ্যাপসা গরম থাকে এবং বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে বজায় থাকে।

৬. ওমান

আরব উপদ্বীপের দেশ ওমান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উষ্ণ অঞ্চল। বছরের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ওঠানামা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ওমানের গ্রীষ্মকালীন তীব্রতা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে, যার ফলে দেশটির সাধারণ জীবনযাত্রা আধুনিক এয়ার-কন্ডিশনিং ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

৭. সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)

মরু জলবায়ুর দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বছরের বড় একটা সময় জুড়েই থাকে তীব্র গরম। বিশেষ করে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর স্পর্শ করে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যৌথ প্রভাবে দুবাই বা আবুধাবির মতো আধুনিক শহরগুলোতেও গরমের তীব্রতা প্রতি বছর আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

jagonews-20230511155115

৮. সুদান

আফ্রিকার এই দেশটিতে বছরজুড়েই তীব্র গরম আবহাওয়া বিরাজ করে। সুদানের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে এবং গ্রীষ্মের মূল সময়ে তাপমাত্রা ৪৮ থেকে ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। খুবই সামান্য বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক ও কষ্টকর।

৯. ভারত

বিশাল ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দেশ হলেও ভারতের একটি বড় অংশ জুড়ে গ্রীষ্মকালে চরম তাপমাত্রা দেখা দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবে ভারতের রাজস্থান, দিল্লি এবং উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে মে-জুন মাসে তাপমাত্রা এখন নিয়মিত ৪৮ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিটওয়েভ বা দাবদাহের কারণে দেশটিতে পূর্বের অনেক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে।

আরও পড়ুন: দেশে তীব্র গরম— সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কবে, কোথায়, কত ছিল?

১০. সৌদি আরব

বিস্তীর্ণ মরুভূমি আর শুষ্ক আবহাওয়ার দেশ সৌদি আরবে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নেয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে রুব আল খালি মরুভূমি সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক চিত্র। বৃষ্টিহীন শুষ্ক পরিবেশের কারণে এই গরম সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে।

এজেড