তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে রান্নার গ্যাসের দাম। দফায় দফায় এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শহরাঞ্চলের বাসা-বাড়ির রান্নার বাজেট এখন পুরোপুরি ওলটপালট।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—গ্যাসের চুলার তুলনায় কি ইলেকট্রিক চুলায় রান্নার খরচ কম? নাকি বিদ্যুৎ বিলেও পকেট ফাঁকা হবে—এমন হিসাব-নিকাশই এখন মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সর্বশেষ ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষণা করেছে নতুন মূল্য। এই ঘোষণা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। গত মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
_20261005_113415409.jpeg)
এক মাসের ব্যবধানে ১৬ শতাংশের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধির ফলে এটি এখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এলপিজি গ্যাসের দাম। সরকারি এলপিজির দাম কিছুটা কম থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চটকদার দামে বেসরকারি সিলিন্ডারই ভরসা।
গ্যাসের এমন লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়িতে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা (ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড কুকার) ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
রান্নার খরচে গ্যাস বনাম ইলেকট্রিক চুলা
সাধারণত একটি চার সদস্যের পরিবারের মাসে ১টি ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসেই পুরো মাস রান্নার কাজ চলে। বর্তমান বাজারদরে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা খরচ হচ্ছে শুধু এক সিলিন্ডার গ্যাসের পেছনে।
অন্যদিকে, ইলেকট্রিক চুলার ক্ষেত্রে খরচ হিসাব করা হয় ওয়াট ও ব্যবহারের সময়ের ওপর ভিত্তি করে। একটি সাধারণ ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড কুকার সাধারণত ২০০০ ওয়াটের হয়ে থাকে। তবে রান্নার সময় এটি সবসময় পূর্ণ শক্তিতে চলে না, মাঝারি আঁচে বা প্রয়োজনে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা রান্না করলে মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। বর্তমান আবাসিক বিদ্যুতের প্রথম দিকের ধাপগুলোর ট্যারিফ অনুযায়ী এই পরিমাণ বিদ্যুতের দাম সিলিন্ডার গ্যাসের তুলনায় বেশ কম আসে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের চেয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করা তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন— একটানা দীর্ঘ সময় রান্না করলে বিদ্যুৎ বিলের ট্যারিফ স্ল্যাব বেড়ে যেতে পারে, যা খরচ বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া অনেক এলাকায় লোডশেডিং বা ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশনের সমস্যা থাকায় অনেকে শতভাগ বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে সাহস পান না।
আরও পড়ুন: গ্যাসের দাম যখন আকাশচুম্বী: সাশ্রয়ী চুলা হতে পারে আপনার সেরা সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলিন্ডার গ্যাসের যেভাবে দফায় দফায় দাম বাড়ছে, তাতে রান্নাঘরে বিদ্যুৎভিত্তিক চুলার ব্যবহার আগামী দিনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। তবে স্থায়ী ও সাশ্রয়ী সমাধানের জন্য গৃহস্থালিতে জ্বালানি খাতের সঠিক মনিটরিং ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
এজেড