বাজারে হঠাৎ করেই গ্যাসের সিলিন্ডারের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তবে রান্নার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং সঠিক সাশ্রয়ী চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে মাসিক গ্যাসের খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
গ্যাস সাশ্রয়ী চুলা কোনগুলো?
বিজ্ঞাপন
বাজারে বর্তমানে কয়েক ধরনের গ্যাস সাশ্রয়ী চুলা পাওয়া যায়:
১. ব্লু ফ্লেম বা নীল শিখার বার্নার: যেসব চুলার বার্নার নিখুঁতভাবে অক্সিজেন ও গ্যাসের মিশ্রণ তৈরি করে নীল শিখা উৎপন্ন করে, সেগুলো সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়ী।

২. ইনফ্রারেড বার্নার চুলা: এই চুলাগুলোতে প্রথাগত আগুনের শিখার বদলে ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে তাপ তৈরি করা হয়। এটি সরাসরি হাঁড়ি-পাতিলকে উত্তপ্ত করে।
বিজ্ঞাপন
৩. হানিকম্ব চুলা (Honeycomb) বা মৌচাক কাঠামোর বার্নার: এই ধরনের বার্নারে শত শত ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে যা শিখাকে ছড়িয়ে যেতে দেয় না।
৪. হাই-থার্মাল এফিসিয়েন্সি গ্লাস টপ চুলা: আধুনিক এই চুলাগুলো তাপ অপচয় রোধ করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা।

সাশ্রয়ী হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ
একটি সাধারণ চুলার তুলনায় সাশ্রয়ী চুলাগুলো কেন কম গ্যাস খরচ করে, তার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:
পূর্ণ দহন (Complete Combustion): বিজ্ঞানের নিয়মে, গ্যাসের শিখা যখন হলুদ হয়, তখন বুঝতে হবে গ্যাস পুরোপুরি জ্বলছে না এবং অপচয় হচ্ছে। সাশ্রয়ী চুলার বার্নারগুলো এমনভাবে তৈরি যা বায়ুমণ্ডল থেকে সঠিক অনুপাতে অক্সিজেন গ্রহণ করে। ফলে গ্যাসের অণুগুলো পুরোপুরি দহনে অংশ নেয় এবং উজ্জ্বল নীল শিখা তৈরি করে। এতে তাপের অপচয় হয় না।
থার্মাল এফিসিয়েন্সি (Thermal Efficiency): সাধারণ চুলার তাপের একটি বড় অংশ চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে যায়। সাশ্রয়ী চুলাগুলোতে বিশেষ ‘কনসেন্ট্রেটেড ফ্লেম’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা শিখাকে সরাসরি হাড়ির তলায় কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। ফলে কম সময়ে রান্না শেষ হয়।
ইনফ্রারেড বিকিরণ: ইনফ্রারেড বার্নারগুলোতে তাপ কোনো শিখা আকারে বের হয় না, বরং সিরামিক প্লেটের মাধ্যমে তাপীয় বিকিরণ (Thermal Radiation) তৈরি করে। এতে রান্নার পাত্রটি খুব দ্রুত গরম হয় এবং বাতাসে তাপ নষ্ট হওয়ার পরিমাণ প্রায় শূন্যে নেমে আসে।

গ্যাস সাশ্রয়ে কিছু জরুরি টিপস
১. বার্নার পরিষ্কার রাখা: বার্নারের ছিদ্র বন্ধ থাকলে গ্যাস বাধাগ্রস্ত হয় এবং শিখা লালচে হয়ে অপচয় বাড়ে। নিয়মিত টুথব্রাশ দিয়ে বার্নার পরিষ্কার রাখুন।
২. পাত্রের আকার ও ঢাকনা: চুলার শিখার চেয়ে বড় তলা বিশিষ্ট পাত্র ব্যবহার করুন। রান্নার সময় সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করলে অন্তত ১০-১৫% গ্যাস সাশ্রয় হয়।
আরও পড়ুন: তাপমাত্রা কততে নামলে শীত অনুভূত হয়?
৩. আর্দ্রতা দূর করা: ভেজা হাড়ি সরাসরি চুলায় দেবেন না। এতে আগে পানি শুকাতে গ্যাস খরচ হয়। হাড়িটি মুছে চুলায় দিন। ৪. প্রেশার কুকার: ডাল বা মাংসের মতো খাবার রান্নায় প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে সময় ও গ্যাস দুই-ই বাঁচে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিবান্ধব ও সাশ্রয়ী চুলা কেনা কেবল একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত নয়, বরং পকেটের খরচ কমানোর অন্যতম প্রধান উপায়।
এজেড

