তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
অ্যাপল তাদের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন করেছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে জন টার্নাস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও-র পদে দায়িত্ব নিয়েছেন। এর সঙ্গে টিম কুকের প্রায় ১৫ বছরের দীর্ঘ সিইও কার্যকালের অবসান হলো। আধুনিক সময়ে স্টিভ জবস এবং টিম কুকের পর অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া তৃতীয় সিইও হলেন টার্নাস।
ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অ্যাপলের সিইও হওয়ার যাত্রা
জন প্যাট্রিক টার্নাস ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করে ১৯৯৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। অ্যাপলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে কাজ করেছেন, যেখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হার্ডওয়্যার এবং ডিসপ্লে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালে তিনি অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন। শুরুতে তিনি অ্যাপল সিনেমা ডিসপ্লে নিয়ে কাজ করেন এবং ধীরে ধীরে কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বড় দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: এআই ভিডিও শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ফিচার
২৫ বছরে অ্যাপলে তৈরি করেছেন শক্তিশালী পরিচয়
অ্যাপলে প্রায় ২৫ বছরের কর্মজীবনে টার্নাস একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি আইম্যাকের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। এরপর তিনি আইফোন হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের দায়িত্ব নেন। ২০২১ সালে তাকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অব হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়। এই পদে তিনি আইফোন, আইপ্যাড এবং ম্যাকের মতো অ্যাপলের প্রধান প্রোডাক্টগুলোর হার্ডওয়্যার ডেভেলপমেন্টের তদারকি করেছেন।

অ্যাপলের প্রধান প্রোডাক্টগুলোতে রয়েছে তার অবদান
টার্নাসের টিম আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস এবং অ্যাপল ভিশন প্রো-সহ একাধিক প্রোডাক্টের বিভিন্ন প্রজন্মের উন্নয়নে কাজ করেছে। অ্যাপলের ইন্টেল প্রসেসর থেকে অ্যাপল সিলিকনে পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তিনি যুক্ত ছিলেন, যা কোম্পানির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। সাম্প্রতিক সময়ে তার টিম নতুন ডিজাইনের আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার এবং ম্যাকবুক নিও নিয়েও কাজ করেছে।
টিম কুকের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সিইও পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা করার সময় টিম কুক জন টার্নাসের প্রশংসা করে তাকে একজন সৎ ও উদ্ভাবনী মানসিকতার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। জন টার্নাসের প্রথম বড় পাবলিক প্রোগ্রাম হতে পারে ৯ সেপ্টেম্বরের অ্যাপল হার্ডওয়্যার ইভেন্ট। তবে নতুন হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি তার সামনে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সকে আরও উন্নত করা, সিরিকে শক্তিশালী করা এবং এআই কৌশলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর প্রাথমিক কার্যকালের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে। ফলে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের এই নতুন সিইও কীভাবে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ ঠিক করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এজেড