তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২২ এএম
আজকাল অনেকেই এই ভেবে সোলার প্যানেল লাগাচ্ছেন যে, এটি বসালেই তাদের বিদ্যুতের বিল একেবারে শূন্য হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষ সোলার সিস্টেম কেনার সময় কেবল এর কিলোওয়াটের দিকে বেশি নজর দেন। কিন্তু শুধু কিলোওয়াট দেখাই যথেষ্ট নয়। খুব কম মানুষই জানেন যে সোলার সিস্টেমে প্যানেলের ক্ষমতা এবং ইনভার্টারের ক্ষমতা—দুটিই সম্পূর্ণ আলাদাভাবে কাজ করে। তাই সঠিক সুফল পেতে এই দুটির বিষয়েই পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সোলার সিস্টেমের কিলোওয়াট থেকে মূলত জানা যায়, সোলার প্যানেল ঠিক কতটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। ১, ২, ৩, ৫ এবং ১০ কিলোওয়াটের সিস্টেমের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা একেক রকম হয়ে থাকে এবং সিস্টেমের কিলোওয়াট ক্ষমতা যত বেশি হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণও তত বাড়বে। প্যানেল সূর্যের আলোকে ডিসি (DC) বিদ্যুতে রূপান্তর করে, তবে কোনো নির্দিষ্ট কিলোওয়াটের সিস্টেম ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তা মূলত নির্ভর করে সূর্যের আলোর তীব্রতার ওপর।

অন্যদিকে, ইনভার্টারের কাজটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইনভার্টার সোলার প্যানেল বা ব্যাটারি থেকে পাওয়া ডিসি (DC) বিদ্যুৎকে আমাদের বাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী এসি (AC) বিদ্যুতে রূপান্তর করে। এর ক্ষমতা থেকে বোঝা যায় যে, একই সময়ে বাড়িতে ঠিক কতগুলো বৈদ্যুতিক যন্ত্র একসঙ্গে চালানো সম্ভব। অর্থাৎ, বাড়ির মোট বিদ্যুতের লোড বা ব্যবহার কত, তার ওপর নির্ভর করেই ইনভার্টারের ক্ষমতা নির্বাচন করা উচিত।
আরও পড়ুন: ৫ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল থেকে কতটা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়?
কোনো বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর আগে প্রথমেই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন যে সেখানে মোট কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাড়িতে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকলে, সেটিও শুরুতেই বিবেচনায় রাখা দরকার। শুধু বেশি কিলোওয়াটের প্যানেল বসালেই যে বিদ্যুতের বিল শূন্য হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। তাই বাড়ির আসল চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সাইজের সোলার প্যানেল এবং উপযুক্ত ক্ষমতার ইনভার্টারের সঠিক কম্বিনেশন বেছে নেওয়াই সবচেয়ে লাভজনক ও বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড