Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

বাংলাদেশে কেন গোল পিনের প্লাগ আর আমেরিকা-জাপানে চ্যাপ্টা?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

বাংলাদেশে গোল পিনের প্লাগ ব্যবহৃত হলেও আমেরিকা বা জাপানে চ্যাপ্টা পিন দেখা যায়। বিদ্যুতের প্রাচীন ইতিহাস, ভোল্টেজ সিস্টেম এবং নিরাপত্তার কারণেই মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন আলাদা আলাদা প্লাগের ডিজাইন তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন দেশে আলাদা প্লাগ ব্যবহারের ইতিহাস

১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুতে বিদ্যুতের আবিষ্কার হয় এবং ধীরে ধীরে গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিতে এর ব্যবহার শুরু হয়। সেই সময় কোনো একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড না থাকায় বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের মতো করে বিভিন্ন আকারের প্লাগ এবং সকেট ডিজাইন করেছিল। এর ফলে প্রতিটি দেশ নিজেদের বিদ্যুৎ সংস্থা এবং দেশে তৈরি হওয়া যন্ত্রপাতির ওপর ভিত্তি করে ইলেকট্রিক্যাল গ্রিড তৈরি করে। যখন বিশ্বব্যাপী একটি সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে, ততদিনে কোটি কোটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে একটি কমন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গোটা সিস্টেম বদলে ফেলা সম্ভব ছিল না। এই কারণেই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আকারের প্লাগ দেখতে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রেক্ষাপট এবং গোল পিনের কারণ

বাংলাদেশে গোল পিনের প্লাগকে প্রযুক্তিগতভাবে টাইপ ডি এবং টাইপ এম বলা হয়। এর শিকড় ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে যুক্ত। আসলে বাংলাদেশের বিদ্যুতের পরিকাঠামো ব্রিটিশ শাসনামলেই তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে ভারত মহাদেশের সেই সময়ের ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড বিএস ৫৪৬ গ্রহণ করেছিল। দেশভাগের পরেও এই সিস্টেম ব্যবহার করা অব্যাহত থাকে, কারণ দেশের গ্রিড এবং সকেট ইতিমধ্যেই এই ধরনের নকশা অনুযায়ী তৈরি হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, ব্রিটেন ১৯৪৭ সালের আশপাশে নিজেদের দেশে চ্যাপ্টা আয়তাকার পিনের টাইপ জি প্লাগ চালু করে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত গোল পিনের প্লাগের ব্যবহার চালিয়ে যায়।
socket

ভোল্টেজ সিস্টেমের ভিন্নতা

কোনো দেশের প্লাগের ডিজাইন সেই দেশের বিদ্যুতের ভোল্টেজ এবং ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গেও যুক্ত। বাংলাদেশ, ভারত এবং ইউরোপে ভোল্টেজ তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই কারণে গোল পিনের সকেট ব্যবহার করা হয়, যাতে কোনো আঙুল বা ধাতব বস্তু সহজে লাইভ পিনের সংস্পর্শে আসতে না পারে। অন্যদিকে, আমেরিকা বা জাপানে ভোল্টেজ তুলনামূলকভাবে কম। কম ভোল্টেজে একই পরিমাণ পাওয়ার দেওয়ার জন্য বেশি কারেন্টের প্রয়োজন হয়। এই পরিস্থিতিতে চ্যাপ্টা পিনের প্লাগ সকেটের ভিতরে বেশি সারফেস এরিয়া দখল করে, যার ফলে কারেন্টের প্রবাহ নিরাপদভাবে হয়।

নিরাপত্তা ও পিনের গঠনগত বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশ, ভারত এবং অন্যান্য দেশে আলাদা ধরনের প্লাগ থাকার অন্যতম কারণ নিরাপত্তা। আমেরিকা বা জাপানে চ্যাপ্টা পিনগুলোর মধ্যে একটি অন্যটির তুলনায় কিছুটা চওড়া হয়। এর ফলে প্লাগ সকেটে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দিকেই ঢুকানো যায়। এতে লাইভ এবং নিউট্রাল তার সবসময় সঠিক জায়গায় সংযুক্ত হয়।

আরও পড়ুন: ইস্ত্রি অতিরিক্ত গরম হলে পুড়তে পারে কাপড়, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

বাংলাদেশ ও ভারতে ৩ পিনের গোল প্লাগে ওপরের আর্থিং পিনটি লম্বা এবং মোটা হয়, যাতে যন্ত্রে বিদ্যুৎ প্রবাহ শুরু হওয়ার আগেই আর্থিং সংযোগ নিরাপদ হয়ে যায়। এই কারণেই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় ভোল্টেজ কনভার্টার এবং ইউনিভার্সাল ট্রাভেল অ্যাডাপ্টারের প্রয়োজন হয়।

এজেড