images

তথ্য-প্রযুক্তি

কম্পিউটার 'বাগ' কি আসলেই কোনো পোকা? জানুন ইতিহাসের এক মজার ঘটনা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

প্রযুক্তি জগতে 'কম্পিউটার বাগ' বা 'বাগ' শব্দটি আমরা প্রতিনিয়তই ব্যবহার করে থাকি। কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা যেকোনো সফটওয়্যারে কোনো ধরনের ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলেই তাকে 'বাগ' বলা হয়। তবে অনেকেই মনে করেন এই শব্দটি হয়তো কোনো ডিজিটাল ভাইরাস বা কোডিংয়ের ভুল থেকে এসেছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই শব্দের উৎপত্তির পেছনে রয়েছে এক বাস্তব পোকা এবং এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

আজ থেকে প্রায় আট দশক আগে একটি সত্যিকারের পোকার কারণেই প্রযুক্তি বিশ্বে এই শব্দের জন্ম হয়েছিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কম্পিউটারের যেকোনো সমস্যা এবং তা সমাধানের প্রক্রিয়াকে একটি বিশেষ নামে ডাকা হয়।

১৯৪৭ সালের সেই ঐতিহাসিক ঘটনা

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৪৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন 'Mark II' নামক একটি বিশাল আকৃতির কম্পিউটার নিয়ে কাজ চলছিল। তৎকালীন সময়ের কম্পিউটারগুলো বর্তমানের মতো ছোট বা পোর্টেবল ছিল না, বরং সেগুলো ছিল বিশাল আকৃতির যন্ত্র, যা তৈরি হতো অসংখ্য যান্ত্রিক রিলে, সুইচ এবং তারের জটিল সংমিশ্রণে।

সেদিন কাজ করার সময় হঠাৎ করেই কম্পিউটারটি সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং সিস্টেমে বারবার ত্রুটি দেখাতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও যখন প্রোগ্রামাররা ত্রুটির আসল কারণ খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং টিম মিলে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের প্রতিটি অংশ খুলে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।

computer_bug_-_bug

সফটওয়্যার নয়, ধরা পড়ল সত্যিকারের পোকা

তদন্তের এক পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়াররা দেখতে পান, কম্পিউটারের একটি যান্ত্রিক রিলের ভেতরে একটি মথ বা পোকা আটকে রয়েছে। পোকাটি ভেতরে ঢুকে পড়ার কারণে সেখানে শর্ট সার্কিট তৈরি হয়েছিল এবং পুরো সিস্টেমের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।

আরও পড়ুন: কম্পিউটারের ‘মাউস’ কেন ইঁদুরের নামে রাখা হলো?

বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী গ্রেস হপার তখন সেখানে কর্মরত ছিলেন। তার সহকর্মীরা যখন যন্ত্রের ভেতর থেকে পোকাটিকে উদ্ধার করেন, তখন গ্রেস হপার সেই মৃত পোকাটিকে নিয়ে তার কাজের লগবুক বা ডায়েরিতে স্কচটেপ দিয়ে আটকে রাখেন। সেই ডায়েরির পাতায় তিনি লিখেছিলেন, "First actual case of bug being found" (প্রথমবারের মতো সত্যিকারের বাগ বা পোকা খুঁজে পাওয়া গেল)। আমেরিকার 'ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ আমেরিকান হিস্ট্রি'-তে এই ঐতিহাসিক লগবুকটি আজও সংরক্ষিত রয়েছে।

এভাবেই জন্ম হলো ‘Debugging’ শব্দের

কম্পিউটারের ভেতর থেকে সেই পোকাটিকে সফলভাবে বের করে নেওয়ার পর যন্ত্রটি আবার আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। একটি পোকা বা 'Bug' দূর করে কম্পিউটারকে সচল করার এই ঘটনা থেকেই পরবর্তীতে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন দুটি শব্দের সৃষ্টি হয়।

কম্পিউটার বা সফটওয়্যারের যেকোনো ত্রুটিকে বলা হতে থাকে 'Bug' (বাগ), এবং সেই ত্রুটি বা সমস্যা খুঁজে বের করে তা সমাধান করার পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা শুরু হয় 'Debugging' (ডিবাগিং)। বর্তমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগেও বিশ্বজুড়ে প্রোগ্রামার ও ডেভলপাররা এই শব্দ দুটিকেই তাদের পেশাগত ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

এজেড