তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
সাইবার অপরাধের জগতে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম ‘এআই ফিশিং’ (AI Phishing)। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতারকরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। আগে লটারি জেতা বা অসংলগ্ন মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণা করা হলেও, এখন এআই-এর কল্যাণে এই মেসেজগুলো হয়ে উঠেছে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিশ্বাসযোগ্য। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে আসল এবং নকলের পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এআই ফিশিং আসলে কী?
এটি এমন এক ডিজিটাল প্রতারণা যেখানে অপরাধীরা এআই ব্যবহার করে ব্যাংক, নামী কোম্পানি বা আপনার পরিচিত কোনো ব্যক্তির হুবহু নকল মেসেজ বা ইমেইল তৈরি করে। এই মেসেজগুলো শুধু ব্যাকরণগতভাবেই নির্ভুল নয়, বরং এগুলো আপনার পছন্দ-অপছন্দ এবং অনলাইন আচরণের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করা হয়। ফলে একজন ব্যবহারকারী খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে নিজের গোপন তথ্য বা অর্থ তুলে দেন প্রতারকদের হাতে।
আরও পড়ুন: আনইনস্টল করলেও ফিরছে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার, ফোন সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
প্রতারণার লক্ষণগুলো চিনবেন যেভাবে
এআই ফিশিং মেসেজগুলো চিনতে নিচের বিষয়গুলোতে লক্ষ্য রাখুন-
অত্যধিক জরুরি ভাব: মেসেজে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যাতে আপনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যেমন— "আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনই বন্ধ হয়ে যাবে" বা "পার্সেল পেতে হলে দ্রুত এই লিঙ্কে ক্লিক করুন"।
অস্বাভাবিক অনুরোধ: কোনো পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি হুট করে আপনার পাসওয়ার্ড, ওটিপি (OTP) বা পেমেন্টের তথ্য চাইলে সতর্ক হোন।
লিঙ্ক ও সোর্স: মেসেজের প্রেরকের ইমেইল অ্যাড্রেস বা লিঙ্কের ইউআরএল (URL) ভালো করে লক্ষ্য করলে প্রায়ই সামান্য অমিল খুঁজে পাওয়া যায়।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী উপায়
ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা জরুরি-
১. সরাসরি লিঙ্কে ক্লিক এড়িয়ে চলুন: ইমেইল বা মেসেজে আসা কোনো লিঙ্কে সরাসরি ক্লিক না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিজে টাইপ করে প্রবেশ করুন।
২. সত্যতা যাচাই: ব্যাংক বা অন্য কোনো সেবার নামে মেসেজ এলে সরাসরি তাদের কাস্টমার কেয়ারে কল করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৩. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): আপনার ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং আর্থিক অ্যাকাউন্টে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।
৪. সতর্কতা ও সচেতনতা: তাড়াহুড়া করে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। মনে রাখবেন, কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান মেসেজে আপনার পিন বা পাসওয়ার্ড জানতে চাইবে না।
আক্রান্ত হলে কী করবেন?
যদি ভুলবশত কোনো লিঙ্কে তথ্য দিয়ে ফেলেন, তবে মুহূর্তের মধ্যে আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে আপনার সচেতনতাই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
এজেড