অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি বিশেষ ম্যালওয়্যার। সাধারণত কোনো ক্ষতিকর অ্যাপ ধরা পড়লে আমরা তা আনইনস্টল করে নিশ্চিন্ত হই। কিন্তু এই ম্যালওয়্যারটি এতটাই চতুর যে, একবার ডিভাইসে জায়গা করে নিলে আনইনস্টল করার পরেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসতে পারে। মূলত ফিশিং লিঙ্ক বা অনিরাপদ APK ফাইলের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ছে।
ম্যালওয়্যারটি যেভাবে কাজ করে
বিজ্ঞাপন
এই ম্যালওয়্যারটি সাধারণ অ্যাপের ছদ্মবেশে ফোনে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে 'Accessibility Permission' বা প্রবেশাধিকারের অনুমতি কেড়ে নেয়। একবার এই ক্ষমতা পেয়ে গেলে এটি ডিভাইসের ইন্টারফেস নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। এমনকি অ্যাপটি মুছে ফেললেও সিস্টেমের ব্যাকআপ ফাইল বা লুকানো প্রসেস ব্যবহার করে এটি নিজেকে পুনরায় ইনস্টল করে ফেলে। একে সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় বলা হয় ‘পার্সিস্টেন্স’ কৌশল।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপ দিয়েই মোবাইল রিচার্জ করা যাবে
আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণসমূহ
আপনার ফোনটি এই ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত কি না, তা বুঝবেন যেভাবে:
বিজ্ঞাপন
বারবার অজানা অ্যাপ ইনস্টল করার অনুরোধ বা পারমিশন চাওয়া।
ব্যাটারি অস্বাভাবিক দ্রুত শেষ হওয়া এবং ফোনের গতি কমে যাওয়া।
অপ্রত্যাশিত পপ-আপ বিজ্ঞাপন আসা এবং ডেটা খরচ বেড়ে যাওয়া।
কল লগ বা মেসেজে অজানা কার্যক্রম লক্ষ্য করা।

ম্যালওয়্যার দূর করতে করণীয়
যদি সন্দেহ হয় যে ফোন আক্রান্ত হয়েছে, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন-
১. ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করুন: শুরুতেই ফোনের ডেটা বা ওয়াইফাই বন্ধ করুন যাতে ম্যালওয়্যারটি সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে।
২. Safe Mode ব্যবহার: ফোনটিকে 'Safe Mode'-এ রিস্টার্ট করুন। এতে থার্ড-পার্টি অ্যাপগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে।
৩. অনুমতি বাতিল: সেটিংস থেকে 'Accessibility' এবং 'Device Administrator' অপশনে গিয়ে সন্দেহজনক অ্যাপের অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিন।
৪. ব্যাকআপ যাচাই: অটোমেটিক ব্যাকআপ রিস্টোর বন্ধ করুন এবং সন্দেহজনক অ্যাপের সাথে যুক্ত ফাইলগুলো মুছে ফেলুন।
৫. ফ্যাক্টরি রিসেট: যদি কিছুতেই কাজ না হয়, তবে প্রয়োজনীয় ডেটা আলাদাভাবে ব্যাকআপ নিয়ে ফোনটি 'Factory Reset' করুন। তবে রিসেটের পর পুরোনো সেটিংস বা অ্যাপ রিস্টোর করবেন না।
সুরক্ষিত থাকার উপায়
সাইবার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সবসময় গুগল প্লে-স্টোরের মতো অফিসিয়াল সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে। অপরিচিত কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা APK ফাইল ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকাই ডিজিটাল নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি। এছাড়া ফোনের অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট রাখা জরুরি।
এজেড




