তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
দেশের প্রথম স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু করতে স্টারলিংক মোবাইলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। স্টারলিংক মোবাইল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে ডাটা, ভয়েস, ভিডিও ও মেসেজিং সেবা দেওয়া সম্ভব।
নিজেদের ‘পিপল ফার্স্ট’ দর্শন ও দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলালিংক তাদের নেটওয়ার্কে স্টারলিংকের উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যুক্ত করছে, যা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা যাবে। বিশেষ করে ‘ডেড জোন’—অর্থাৎ যেখানে সাধারণত মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না বা সিগন্যাল দূর্বল থাকে—সেসব তুলনামূলক দুর্গম এলাকাতেও সংযোগ পাওয়া যাবে।
এ উদ্যোগের ফলে নেটওয়ার্ক হবে আরও স্থিতিশীল, ফলে গ্রাহকেরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে একদম নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। দেশের যেখানেই থাকুন না কেন, নেটওয়ার্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসবে। আকাশ দেখা যায়—এমন যেকোনো জায়গা থেকেই টেক্সট মেসেজ পাঠানো এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা ও প্রয়োজনীয় যেকোন ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করা যাবে। শুরুতে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং সুবিধা দিয়ে সেবাটি চালু হবে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এতে ভয়েস ও ডাটা সেবাও যুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এ কারণে পার্বত্য অঞ্চল, নদীবেষ্টিত চর, উপকূলীয় দ্বীপ ও সাগরের অফশোর এলাকাতে প্রচলিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন অনেক ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বাংলালিংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্যাটেলাইট সংযোগ যুক্ত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে কম উন্নত বা সেবাবঞ্চিত এলাকাতেও নির্ভরযোগ্যভাবে যোগাযোগ করা সহজ হবে। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতেও স্যাটেলাইটভিত্তিক এ মোবাইল সেবা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই দেশে এ সেবা চালু করা হবে ।
আরও পড়ুন: ঢাকার ৪০ ও দেশের ৪০০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫জি সেবা চালু
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, “সংযোগ মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, সংযোগ মানে মানুষের প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকা। অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের এখনো কিছু এলাকা প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে রয়ে গেছে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক কাভারেজের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কমিয়ে দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী এলাকাতেও সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
স্টারলিংক মোবাইলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) স্টেফানি বেডনারেক বলেন, “বাংলালিংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সংযোগ চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষ সংযুক্ত থাকতে পারবেন। ভিয়নের সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই সেবা চালু হচ্ছে, যা সবার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত ধরে।”
ভিয়নের সেবা চালু রয়েছে—এমন দেশগুলোতে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সংযোগ আরও বিস্তৃত করতে ভিয়ন ও স্টারলিংকের যৌথ উদ্যোগেরই অংশ এটি। ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ হবে ভিয়নের তৃতীয় অপারেটর, যেখানে এই প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। ডিজিটাল এই যুগে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলালিংকের সেই প্রচেষ্টা আরও জোরালো হবে।
এজেড