images

তথ্য-প্রযুক্তি

আপনি কি হোয়াটসঅ্যাপ ভাড়া দিচ্ছেন? প্রতারণার নতুন ফাঁদ থেকে বাঁচুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধীরা এখন প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এখন আর কেবল সন্দেহজনক লিংক বা ভুয়া ব্যাংক কলের ওপর তারা নির্ভর করছে না। বরং ফোনের সাধারণ কিছু ফিচার এবং জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে তারা ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে কল ফরওয়ার্ডিং এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ভাড়ার মতো নতুন ফাঁদগুলোতে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এই কৌশলগুলো সম্পর্কে জানা এবং সচেতন থাকা এখন সময়ের দাবি।

কল ফরওয়ার্ডিং জালিয়াতি ও এর ঝুঁকি

বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক ডিজিটাল প্রতারণার একটি হলো কল ফরওয়ার্ডিং। প্রতারকরা সাধারণত গ্রাহক সেবাকেন্দ্রের প্রতিনিধি সেজে ফোন করে জানায় যে, ব্যবহারকারীর সিম কার্ড বা কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করা প্রয়োজন। এই সমস্যা সমাধানের অজুহাতে তারা একটি নির্দিষ্ট শর্ট কোড বা ইউএসএসডি (USSD) কমান্ড (যেমন- *৭২ বা *৪০১# এর পর একটি মোবাইল নম্বর) ডায়াল করতে বলে। ব্যবহারকারী যখনই এই কোডটি ডায়াল করেন, তার ফোনের সমস্ত ইনকামিং কল নীরবে অপরাধীর নম্বরে চলে যায়। এর ফলে ব্যাংক বা বিভিন্ন সেবার ওটিপি (OTP) ও ভেরিফিকেশন কল সরাসরি প্রতারকের কাছে পৌঁছে যায়, যা ব্যবহারকারী টেরও পান না।

WhatsApp-66f3a5fd0b221

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার ফাঁদ

প্রতারকরা এখন মানুষের পরিচয় চুরি করার জন্য ‘হোয়াটসঅ্যাপ রেন্টাল’ বা অ্যাকাউন্ট ভাড়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। বাড়তি আয়ের টোপ দিয়ে ব্যবহারকারীদের তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি কয়েক ঘণ্টা বা দিনের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দিতে বলা হয়। বিনিময়ে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করতে বা কোনো ডিভাইস লিংক করতে বলা হয়। একবার এই সংযোগ স্থাপন হয়ে গেলে প্রতারকরা দূর থেকে ওই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর সেই আসল অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে টাকা চেয়ে বা ক্ষতিকারক লিংক পাঠিয়ে প্রতারণা চালানো হয়। যেহেতু মেসেজটি পরিচিত নম্বর থেকে যায়, তাই অন্যরা সহজেই এতে বিশ্বাস করে বিপদে পড়েন।

আর্থিক ও আইনি জটিলতা

এই ধরনের প্রতারণার শিকার হলে কেবল আর্থিক ক্ষতিই হয় না, বরং আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকিও থাকে। যখন আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোনো অপরাধমূলক কাজ বা আর্থিক জালিয়াতি করা হয়, তখন প্রাথমিক তদন্তে রেজিস্টার্ড মালিক হিসেবে আপনার নাম চলে আসতে পারে। এছাড়া একবার ফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে গেলে তারা ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ক্লাউড স্টোরেজে থাকা ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ পায়।

1701250789922

সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও করণীয়

সাইবার অপরাধীদের এই বিবর্তিত কৌশল থেকে বাঁচতে সচেতনতাই একমাত্র সমাধান। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির প্ররোচনায় ফোনে কোনো কোড ডায়াল করবেন না। মনে রাখবেন, কোনো টেলিকম প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক কখনোই ফোনে কোড ডায়াল করতে বা ওটিপি শেয়ার করতে বলে না। আপনার ফোনের কল ফরওয়ার্ডিং সক্রিয় আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। কল ফরওয়ার্ডিং বাতিল করতে ফোনের সেটিংসে যান অথবা প্রায় সব নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রেই ##০০২# ডায়াল করলে সক্রিয় থাকা সব ফরওয়ার্ডিং পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপে এই সেটিংস অন করলে কেউ গোপনে আড়ি পাততে পারবে না

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল

অনলাইনে কোনো কাজ বা আয়ের অফার দেখে কোনো কিউআর কোড স্ক্যান করবেন না। হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই 'টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন' (Two-factor authentication) চালু রাখুন। অপরিচিত কোনো অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। যেকোনো কাজ করার আগে তাড়াহুড়া না করে অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে নিন। আপনার ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ যাতে অন্যের হাতে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকাই হচ্ছে বর্তমান সময়ের সেরা নিরাপত্তা।

এজেড