তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
স্মার্টফোনের দুনিয়ায় সবচেয়ে পুরোনো এবং অমীমাংসিত বিতর্কের নাম ‘আইফোন বনাম অ্যানড্রয়েড’। কোন অপারেটিং সিস্টেমের ফোন বেশি শক্তিশালী— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রযুক্তিপ্রেমীরা প্রায়ই দ্বারস্থ হন বিভিন্ন পারফরম্যান্স পরিমাপক পদ্ধতি বা ‘বেঞ্চমার্ক’-এর। এর মধ্যে ‘আনটুটু’ (AnTuTu) অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে সম্প্রতি গ্যাজেট বিশ্লেষকদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বেঞ্চমার্ক স্কোর দিয়ে আইফোন ও অ্যানড্রয়েডের সরাসরি তুলনা করা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়।
কারিগরি কাঠামোর ভিন্নতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইফোন এবং অ্যানড্রয়েড ফোনের কার্যপদ্ধতি বা ব্যাক-এন্ড প্রযুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। আনটুটু বেঞ্চমার্ক যখন কোনো আইফোনের রেটিং নির্ধারণ করে, তখন তারা ‘মেটাল এপিআই’ (Metal API) ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, অ্যানড্রয়েড ফোনের পারফরম্যান্স যাচাইয়ে ব্যবহার করা হয় ‘ভলক্যান এপিআই’ (Vulkan API)। যেহেতু দুই ধরনের ফোনের জন্য আলাদা আলাদা মানদণ্ড বা নিয়ম অনুসরণ করা হয়, তাই প্রাপ্ত ফলাফল বা স্কোরের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা স্কোর দেখে একটিকে অন্যটির চেয়ে সেরা মনে করলেও, কারিগরি দিক থেকে সেই তুলনা অর্থহীন।

বাস্তব জীবন বনাম বেঞ্চমার্ক স্কোর
বেঞ্চমার্ক পরীক্ষার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো— এর ফলাফল ব্যবহারকারীর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সব সময় মেলে না। ফোনের প্রসেসর ল্যাবে কতটা ভালো কাজ করছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের ব্যবহারে (যেমন: অ্যাপ খোলা, গেমিং বা মাল্টিটাস্কিং) ফোনটি কেমন সাড়া দিচ্ছে। আনটুটু স্কোর অনেক সময় কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানোর সুযোগ থাকে, যা সাধারণ ব্যবহারের সময় অনুভূত হয় না।

স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট
আনটুটু বেঞ্চমার্কের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। গুগলের প্লে-স্টোরে এই অ্যাপটি বর্তমানে সরাসরি পাওয়া যায় না। থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে ডাউনলোড করে এই পরীক্ষা চালাতে হয়। ফলে এর ফলাফল কতটা নিরপেক্ষ এবং যুক্তিগ্রাহ্য, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্যাজেট বিশ্লেষক।
আরও পড়ুন: ব্রাউজারে অনেকগুলো ট্যাব খুলে রাখলে কি ইন্টারনেটের গতি কমে?
দুই ভিন্ন গ্রহের প্রযুক্তির মধ্যে কেবল একটি নম্বর বা স্কোরের ভিত্তিতে লড়াই চালানো ঠিক নয়। আইফোন এবং অ্যানড্রয়েড— উভয়েরই নিজস্ব শক্তি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন কেনার ক্ষেত্রে কেবল বেঞ্চমার্ক স্কোরের ওপর নির্ভর না করে অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা, হার্ডওয়্যার এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এজেড