ইন্টারনেটে কাজ করার সময় আমরা অনেকেই গুগল ক্রোম বা অন্য ব্রাউজারে অসংখ্য ট্যাব খুলে রাখি। দেখা যায়, একটি ট্যাবে ফেসবুক চলছে, অন্যটিতে ইউটিউব, আর বাকিগুলোতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওয়েবসাইট। কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোনে এভাবে গাদা গাদা ট্যাব খুলে রাখলে অনেকেরই ধারণা হয় যে, এতে ইন্টারনেটের গতি কমে যাচ্ছে। আসলে কি তাই? কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে এর সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
একাধিক ট্যাব কি সরাসরি ইন্টারনেটের গতি কমায়?
বিজ্ঞাপন
সহজ উত্তর হলো— না, শুধু ট্যাব খুলে রাখলেই ইন্টারনেটের গতি সরাসরি কমে না। যদি কোনো ট্যাবে এমন কোনো ওয়েবসাইট খোলা থাকে যা স্থির (যেমন কোনো ব্লগের লেখা), তবে সেটি ইন্টারনেটের ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি করে না। একবার পেজটি লোড হয়ে গেলে তা আপনার ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। তবে সমস্যা শুরু হয় যখন কোনো ট্যাবে 'অটো-রিফ্রেশ' বা ভারী কন্টেন্ট থাকে।

কখন ইন্টারনেটের গতিতে প্রভাব পড়ে?
১. ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা ব্যবহার: আপনি যদি এমন কোনো ট্যাব খুলে রাখেন যেখানে অটো-প্লে ভিডিও (যেমন ইউটিউব বা ফেসবুক ফিড) চলছে অথবা কোনো ফাইল ডাউনলোড হচ্ছে, তবে সেটি আপনার ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ দখল করে নেবে। ফলে আপনার বর্তমান কাজের গতি ধীর মনে হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
২. অটো-রিফ্রেশিং ওয়েবসাইট: কিছু নিউজ পোর্টাল বা শেয়ার বাজারের ওয়েবসাইট নির্দিষ্ট সময় পর পর অটো-রিফ্রেশ হয়। এমন অনেকগুলো ট্যাব একসাথে খোলা থাকলে সেগুলো অনবরত ডেটা টানতে থাকে, যা ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়।

র্যাম ও প্রসেসরের ওপর প্রভাব
ইন্টারনেটের গতির চেয়ে ব্রাউজারে বেশি ট্যাব খুললে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে আপনার ডিভাইসের র্যাম (RAM) ও প্রসেসরের ওপর। গুগল ক্রোমের মতো ব্রাউজারগুলো প্রতিটি ট্যাবের জন্য আলাদা মেমোরি খরচ করে। যখন ডিভাইসের র্যাম পূর্ণ হয়ে যায়, তখন পুরো সিস্টেম স্লো বা ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা এই সিস্টেমের স্লো হয়ে যাওয়াকেই ইন্টারনেটের ধীরগতি বলে ভুল করেন।
স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি
ল্যাপটপের তুলনায় স্মার্টফোনে মাল্টি-ট্যাব খোলা রাখা বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এতে প্রসেসরের ওপর চাপ বাড়ায় ব্যাটারি দ্রুত খরচ হয় এবং ফোন গরম হয়ে যায়। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা চালু থাকলে ফোনের ডেটা প্যাকও দ্রুত শেষ হতে পারে।
সুরক্ষা ও সমাধান
যদি আপনি দেখেন অনেক ট্যাব খোলার ফলে আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা ধীর হয়ে যাচ্ছে, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
অপ্রয়োজনীয় ট্যাব বন্ধ করুন: যে ট্যাবগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেছে সেগুলো দ্রুত বন্ধ করে দিন।
ট্যাব ডিসকার্ডিং ফিচার: আধুনিক ব্রাউজারগুলোতে 'মেমোরি সেভার' মোড থাকে, যা অব্যবহৃত ট্যাবগুলোকে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখে।
আরও পড়ুন: ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে ওয়াইফাই রাউটারের অ্যান্টেনা কোন পজিশনে রাখবেন?
এক্সটেনশন ব্যবহার: 'The Great Suspender'-এর মতো এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন যা অলস ট্যাবগুলোকে র্যাম দখল করতে দেয় না।
পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটের গতির চেয়ে অনেক বেশি ট্যাব আপনার ডিভাইসের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মসৃণ অভিজ্ঞতার জন্য একসাথে খুব বেশি ট্যাব না খোলা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড

