স্পোর্টস ডেস্ক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ফুটবলের ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নাম ব্যালন ডি'অর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখে আসছে ফুটবল বিশ্ব। ইতিহাসের পাতা ও রেকর্ড বইয়ে এটি সেরার শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি হলেও, ট্রফিটির চকচকে রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু চমকপ্রদ ও অজানা সত্য। অনেকে একে খাঁটি সোনার তৈরি ভাবলেও বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীকরণ।
১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী 'ফ্রান্স ফুটবল'-এর হাত ধরে শুরু হয় ব্যালন ডি'অরের এই বর্ণাঢ্য যাত্রা। শুরুতে কেবল ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, সময়ের পালাবদলে ১৯৯৫ এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে এর পরিধি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ২০১৮ সাল থেকে নারী ফুটবলারদের জন্যও এই সম্মাননা চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-ব্যালন ডি’অর জয়ে কার কত আধিপত্য? দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা
আরও পড়ুন-ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা কোচের নাম ফাঁস
তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি এই ট্রফিটি দেখতে সোনালি মনে হলেও এটি পুরোপুরি খাঁটি সোনার তৈরি নয়। ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিওর নিপুণ কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টার পরিশ্রমে এটি তৈরি হয়। পিতলের দুটি অর্ধগোলক জোড়া লাগিয়ে ফুটবলের আকৃতি দেওয়ার পর এর ওপর কেবল সোনার প্রলেপ বা সুদৃশ্য আস্তরণ দেওয়া হয়।
পাইরাইট পাথরের ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো ৩১ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও ১০ কেজির বেশি ওজনের এই ট্রফি তৈরিতে আনুমানিক খরচ পড়ে প্রায় ৩ হাজার ইউরো। আয়োজক কর্তৃপক্ষ এর প্রকৃত বাজারমূল্য কখনো প্রকাশ না করলেও, বিশ্বজোড়া খ্যাতির তুলনায় এই উৎপাদন খরচ বেশ অবাক করার মতো।
আরও পড়ুন- ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে যাচ্ছে না পিএসজির কেউ! নেপথ্যে যে কারণ
অন্যদিকে, ব্যালন ডি'অর জয় করলে সরাসরি কোনো প্রাইজমানি বা নগদ অর্থ প্রদান করে না আয়োজক সংস্থা ‘ফ্রান্স ফুটবল’। ট্রফির সঙ্গে কোনো আর্থিক অংক সরাসরি যুক্ত না থাকলেও, এই জয় একজন ফুটবলারের বাণিজ্যিক দরজা পুরোপুরি খুলে দেয়। স্পন্সরশিপ চুক্তি, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং ক্লাবের সঙ্গে বড় অঙ্কের নতুন চুক্তি স্বাক্ষরে এটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
২০১৮ সালে এই পুরস্কার জেতার পর তারকা মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ স্পন্সর প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অংকের বোনাস পেয়েছিলেন।
ব্যালন ডি'অর অর্থমূল্যে মাপা যায় না। এটি কেবল ধাতব কোনো পুরস্কার নয়, বরং একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের অনন্য মোড় ঘোরানো এক বিশাল বৈশ্বিক স্বীকৃতি।