স্পোর্টস ডেস্ক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ এএম
বল দখলে আধিপত্য, মুহুর্মুহু আক্রমণ—সবই করল বার্সেলোনা। কিন্তু দিনশেষে জয়োল্লাসটা করল রিয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোর মহারণে বল পায়ে লামিন ইয়ামাল যেখানে নিষ্প্রভ থাকলেন, সেখানে আলো ছড়ালেন কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি তারকার জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
লিগে টানা ৯ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল বার্সা। এদিকে ক্যাম্প ন্যুতেও টানা ২৩ ম্যাচ জয়ের পর এটাই বার্সার প্রথম হারও।
৪১তম মিনিটে বার্সেলোনার ভুলে আর ভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় রিয়াল। বক্সে ইয়ান ডিওমান্ডের পাস ক্লিয়ার করার চেষ্টায় বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন বল মেরে বসেন ছুটে যাওয়া এমবাপের পায়ে, বল জড়িয়ে যায় জালে!
বার্সার বিপক্ষে ১১ ম্যাচে এটা তার ১৩তম গোল, এর মধ্যে ক্যাম্প ন্যুতেই ১০টি! ১১তম গোলটি পেতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত। তার আগে ৬১ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ছিল বার্সা।
জয়ের পর সবার আগে রিয়ালের গোলকিপার আন্দ্রে লুনিনকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানাতে পারেন কোচ জোসে মরিনিও। এই ম্যাচে রিয়ালের মূল একাদশে তার থাকার কথা ছিল না। নিয়মিত গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ায় সুযোগ পান। ৬৫ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের হেড থেকে বার্সা নিশ্চিত গোল পায়নি ইউক্রেনের এই গোলকিপারের কারণে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে লুনিনের অবিশ্বাস্য সেভে প্রথমার্ধে ভুলের শাপমোচন করতে পারেননি মার্তিন। প্রথমার্ধেও বার্সার উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের তিনটি ভালো সেভ করেন লুনিন।
এমবাপের প্রথম গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বার্সা। সেরা সুযোগটা পেয়েছিল পিছিয়ে পড়ার তিন মিনিট পরই। পেদ্রির দারুণ পাস পেয়ে ডান কোণায় লুনিনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। বলটা কেন কাছের পোস্টের বাইরে মারলেন, সেটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাববেন সম্ভবত ইয়ামাল নিজেই।
রাফিনিয়া দ্বিধা করেননি। এবারও বক্সের ডান দিকে পাসদাতা পেদ্রি। সামনে ডিফেন্ডার রেখেই নিখুঁত শটে ৬১ মিনিটে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। এবার লিগে ৯ ম্যাচে ১৩ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়া, এল ক্লাসিকোয় ৮ম ও মৌসুমে ১১ ম্যাচে ১৫তম গোল। রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরার আনন্দে তখন গর্জে উঠেছিল ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারি। সেই গর্জন একদম নিশ্চুপ করে দিতে এমবাপ্পের সময় লেগেছে ২৬ মিনিট।
এআরএম