স্পোর্টস ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
আফ্রিকান রোদের নিচে আবারও বসতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ও জমজমাট আসর। দীর্ঘ ২৪ বছর পর রঙিন পোশাকের ওয়ানডে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। ক্রিকেটপ্রেমীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার মূল উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করবে আগামী ১ অক্টোবর। সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হবে টুর্নামেন্টের ঠিক এক বছরের কাউন্টডাউন।
আরও পড়ুন-নির্ধারিত হয়ে গেছে ব্যালন ডি'অর বিজয়ী
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা যৌথভাবে ১ অক্টোবরের জমকালো আয়োজনে কেপটাউন থেকে ম্যাচের সময়সূচি উন্মোচন করবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, ২০২৭ সালের ২ অক্টোবর মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সূচি প্রকাশের দিন থেকেই ক্রিকেট ভক্তদের জন্য টিকিটের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হবে। তবে শুরুতেই সরাসরি টিকিট কেনা যাবে না; সমর্থকদের আগে ব্যালটে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
১৪ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণ এখন পুরোপুরি নিশ্চিত। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংকে সরাসরি মূল পর্বে ওঠার মূল ভিত্তি বা কাট-অফ ধরা হয়েছে। স্বাগতিক দুই দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে কোনো শর্ত ছাড়াই সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে। প্রোটিয়ারা স্বাগতিক কোটায় আগেই সুযোগ পাওয়ায়, নিয়ম অনুসারে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশও সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলার রুট পেয়ে গেছে। ফলে র্যাঙ্কিংয়ের দশ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মূল পর্বে আসতে হলে আগামী বছরের কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন-ওয়ানডের ৫৫ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি, সে বিশ্বরেকর্ড এবার দেখল ক্রিকেট
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এই দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। স্বাগতিক প্রোটিয়া ও জিম্বাবুয়েকে মিলিয়ে মোট ১০টি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে, আর বাকি ৪টি দল উঠে আসবে পরবর্তী বছরের কোয়ালিফায়ার রাউন্ড থেকে।
২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো আফ্রিকান অঞ্চলে ফিরে আসা এই আসরে ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭টি। টুর্নামেন্টে আনা হয়েছে নতুন বৈচিত্র্য:
সুপার সিরিজ- মূল পর্বের আগে সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংয়ের ৩টি দল একে অপরের সাথে খেলবে, যেখান থেকে সেরা দলটি পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছাবে।
দ্বিতীয় পর্ব- সর্বমোট ১২টি দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ৩০টি ম্যাচ খেলবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল এবং দুই গ্রুপের মধ্য থেকে সেরা একটি চতুর্থ দল মিলে গঠিত হবে ‘সুপার সেভেন’।
সুপার সেভেন ও নকআউট- ৭টি দল নিজেদের মধ্যে ২১টি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। টেবিলের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।
এদিকে নামিবিয়ার ইতিহাসে এটি প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বসেরা ব্যাটার বিরাট কোহলির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ঘিরেও ক্রিকেটপাড়ায় বিশেষ চর্চা শুরু হয়েছে।