স্পোর্টস ডেস্ক
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
একটি লাল কার্ড দিয়ে শুরু হয়েছিল যে যাত্রা, সেখানে ছিল বারবার ফাইনালের হতাশা, একবার অবসরের ঘোষণা, তারপর প্রত্যাবর্তন আর শিরোপাজয়ের মিছিল। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির সেই নীল-সাদা অধ্যায়ের পর্দা নামল সোমবার। আর্জেন্টিনার হয়ে দুই শতাধিক ম্যাচ খেলা লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। ২০৭ ম্যাচ ও ১২৫ গোল নিয়ে থেমে গেল তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ার। এই দীর্ঘ পথচলায় ছয়টি মুহূর্ত মেসির গল্পকে আলাদা করে তুলে ধরে।
আরও পড়ুন- মেসির হঠাৎ অবসরের কারণ
২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অভিষেক হয় মেসির। হাঙ্গেরির বিপক্ষে বুদাপেস্টে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই লাল কার্ড দেখেন তিনি। অভিষেকটা তাই ভুল কারণে মনে রাখার মতো হয়ে যায়। কিন্তু পরের বছরই অন্য মেসিকে দেখা যায়। জার্মানি বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ৬-০ জয়ে তাঁর বিশ্বকাপ অভিষেক হয় এবং ম্যাচের শেষ গোলটিও করেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্বকাপের সঙ্গে তাঁর কিংবদন্তিতুল্য সম্পর্ক।

আরও পড়ুন-বিশ্ব ফুটবলের মহাকাব্যিক এক অধ্যায়ের সমাপ্তি
২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ২৬ বছরের মেসি ইতিমধ্যেই বার্সেলোনার হয়ে বিশ্বসেরাদের কাতারে। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে বড় সাফল্য তখনও দূরের। আগে ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়, ২০০৭ কোপা আমেরিকা ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হার, ২০১১-তে ঘরের মাঠেও হতাশা। ব্রাজিলে অধিনায়ক হিসেবে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু মারাকানায় জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে স্বপ্ন ভেঙে যায়।

২০১৫ কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ২০১৬ কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওতেও একই প্রতিপক্ষের কাছে আবার টাইব্রেকারে হার। এবার মেসি নিজেই পেনাল্টি মিস করেন। ভেঙে পড়ে তিনি ঘোষণা দেন, জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ। চারটি ফাইনালে খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার কষ্ট তাঁকে তাড়া করে। কিন্তু ছয় সপ্তাহ পরই সিদ্ধান্ত বদলে আবার ফিরে আসেন।
২০১৮ সালে লিওনেল স্কালোনি কোচ হওয়ার পর পরিবর্তন আসে। ২০২১ সালে কোভিডের মধ্যে ব্রাজিলে কোপা আমেরিকা ফাইনালে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার গোলে ১-০ জয়ে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। মেসি পান তাঁর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি।

২০২২ বিশ্বকাপে ৩৫ বছর বয়সে সাত ম্যাচে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেন মেসি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল এবং টাইব্রেকারে নিজের পেনাল্টি সফল করে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এনে দেন। তিনি বলেছিলেন, এটা নিয়েই ক্যারিয়ার শেষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আরও কিছুদিন খেলতে চেয়ে আবারও মাঠে থাকেন।

২০২৪ কোপা আমেরিকায় আবার শিরোপা জিতান। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড ষষ্ঠবার অংশ নেন। প্রায় ৩৯ বছর বয়সে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে নিয়ে যান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় এবং ২১ গোল নিয়ে তিনি তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হন। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে হেরে শেষ ম্যাচটা হতাশায় শেষ হয়। সেই রাতের ছয় সপ্তাহ পরই আসে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা।
এসটি