মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

City Bank CityTouch

মেসির হঠাৎ অবসরের কারণ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

শেয়ার করুন:

মেসির হঠাৎ অবসরের কারণ

সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় লিওনেল মেসি যখন লিখলেন, ‘আমি শপথ করে বলছি, আমি আর্জেন্টিনাকে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি’ তখনই বোঝা গেল, আকাশি-সাদা জার্সির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টানার সময় এসে গেছে। ২০০৫ সালে প্রথমবার সেই জার্সি গায়ে মাঠে নামার মুহূর্ত থেকে শুরু করে প্রায় দুই দশক ধরে তিনি যেভাবে দেশের হয়ে খেলেছেন, তার সমাপ্তি ঘোষণা করলেন এই কিংবদন্তি।

প্রথম ম্যাচেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাল কার্ড দেখে শুরু হওয়া সেই যাত্রা একসময় বিশ্বসেরা ফুটবলারের গল্পে পরিণত হয়। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে গোল, টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্টে সেরার দৌড়ে থাকা এবং আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটিয়ে সোনালি মুকুট পরানো এই মানুষটির অবদান অনেক। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে একপ্রকার জোড়াতালি দেওয়া দলকেও নিজের নৈপুণ্যে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন-বিশ্ব ফুটবলের মহাকাব্যিক এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

আরও পড়ুন-আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেসি

এই আকস্মিক অবসরের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুকে। গত ৮ আগস্ট বাবাকে হারানোর পর মানসিকভাবে তিনি অনেকটাই ভেঙে পড়েন। এর আগে জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর থেকেই অবসরের কথা ভেবেছিলেন এবং ২১ জুলাই সেই ভাবনাগুলো লিখেও রেখেছিলেন। বাবার চলে যাওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই লেখার ছবি শেয়ার করে তিনি জানান, বাবার প্রয়াণের পর আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন।

মেসি বাবাকে খুশি করতেই এই বয়সেও বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েছেন। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও উঠে এসেছিলেন। অনেকেই আশা করেছিলেন, ইন্টার মিয়ামির হয়ে এখনো নিয়মিত গোল করা এই তারকা অন্তত ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা পর্যন্ত জাতীয় দলে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই আশা আর পূরণ হলো না।

বিদায়ী বার্তায় মেসি নিজেই লিখেছেন, সময় খুব অল্প বাকি এবং এভাবেই একেকটি অধ্যায় শেষ হয়। এই অধ্যায় তাঁকে গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলের অংশ হতে তিনি সবসময় ভালোবেসেছেন, এখনো ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবেসে যাবেন। দেশের জন্য তাঁর আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। পাশাপাশি অনেক তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে, যাদের জাতীয় দলে স্থান পাওয়া শতভাগ প্রাপ্য।

এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর