বিজ্ঞান ডেস্ক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
বিশ্বের প্রথম সারির পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে চাঁদ দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এখন নতুন মোড় নিয়েছে। চাঁদের মাটিতে পরমাণু চুল্লি বসানোর লক্ষ্যে আমেরিকা বেশ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন একটি পারমাণবিক চুল্লি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা মহাকাশযাত্রার অভিঘাত বা ধাক্কা সামলে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই সক্রিয় থাকতে পারবে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই চুল্লি চাঁদে পাঠানোর মতো পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলা।
মহাকাশে এই তীব্র প্রতিযোগিতার মূল কারণ পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক উচ্চাভিলাষ। রাশিয়া ও চীন একটি গোপনীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমে যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই অগ্রযাত্রাকে টেক্কা দিতেই মূলত নাসা তাদের কাজের সময়সীমা অনেকটাই এগিয়ে এনেছে। এই দৌড়ের পেছনে রয়েছে আরও বড় কিছু লক্ষ্য। দুই পরাশক্তি দেশই চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করতে চায়। এ ছাড়া চাঁদের বুকে জমে থাকা বরফ ও পানিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান করা এবং ভবিষ্যৎ মহাশূন্য অভিযানে সৌরজগতের আরও গভীরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
_20261005_143611734.jpeg)
ভবিষ্যতের এসব মহাকাশ অভিযানে চাঁদের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশগুলো। আর এই পুরো পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তি। চাঁদের দীর্ঘ রাত, তীব্র সূর্যালোকের ঘাটতি এবং ভবিষ্যতে গড়ে তোলা ঘাঁটিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনকে অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালেই চাঁদের বুকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিল নাসা। সেই সময় অন্তত ৪০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম একটি ছোট পারমাণবিক চুল্লির প্রাথমিক নকশা তৈরির জন্য কয়েকটি সংস্থাকে আর্থিক অনুদানও দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রতিযোগিতা ও তোড়জোড় নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে তীব্র উদ্বেগ বাড়ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে রকেটে উৎক্ষেপণের সময় চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় রাখা হবে এবং চাঁদের মাটিতে সফলভাবে অবতরণের পরই কেবল সেগুলোকে সক্রিয় করা হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানে রকেট বা ল্যান্ডার দুর্ঘটনার একাধিক রেকর্ড থাকায় বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, এত কম সময়ের মধ্যে এই ধরনের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি চাঁদে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এজেড