বিজ্ঞান ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
মহাকাশের বিশালতায় ভাসমান লক্ষ লক্ষ গ্রহাণুর মধ্যে একটি এখন বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রায় ১০০ ফুট আকারের একটি বিশাল গ্রহাণু প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ইতিমধ্যেই এই গ্রহাণুটিকে নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
ধেয়ে আসছে '২০২৬ এফই৭'
সদ্য আবিষ্কৃত এই গ্রহাণুটির নাম দেওয়া হয়েছে ২০২৬ এফই৭। বিজ্ঞানীদের মতে, এর আকার প্রায় ১০০ ফুট চওড়া, যা একটি বিশাল বহুতল ভবনের সঙ্গে তুলনীয়। মহাকাশ গবেষণার তথ্যানুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি পৃথিবীর কক্ষপথের খুব কাছাকাছি চলে আসবে।
গতিবেগ ও দূরত্ব
গ্রহাণুটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন-
গতিবেগ: এটি ঘণ্টায় প্রায় ২৮,০০০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে।
নিকটতম দূরত্ব: যখন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে, তখন এর দূরত্ব হবে মাত্র ৩৪ লক্ষ কিলোমিটার।

ঝুঁকির মাত্রা: নাসার নিয়ম অনুযায়ী, ৭৫ লক্ষ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো গ্রহাণু চলে এলে সেটিকে 'বিপজ্জনক' হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসেবে ২০২৬ এফই৭ যথেষ্ট ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।
কেন গ্রহাণু বিপজ্জনক হতে পারে?
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে অসংখ্য গ্রহাণু অবিরাম ঘুরছে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আরও ১১,০০০ নতুন গ্রহাণু আবিষ্কার করেছেন। পৃথিবীর শক্তিশালী মহাকর্ষ বল অনেক সময় এসব ছোট বা মাঝারি আকারের শিলাখণ্ডকে নিজের দিকে টেনে নেয়। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ (প্রতি সেকেন্ডে ৯.৮ মিটার) এতটাই শক্তিশালী যে কোনো মহাজাগতিক বস্তু এর আওতায় এলে তা পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ৩৫৫ দিনে বছর, অবিকল পৃথিবীর মতো দেখতে ‘শীতল’ এক গ্রহের সন্ধান
সতর্ক নজরদারি
নাসা এবং বিশ্বের অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে এই গ্রহাণুটির ওপর নজর রাখছে। যদিও ৩৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্ব অনেক বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু মহাজাগতিক স্কেলে এটি অত্যন্ত কম। তাই সম্ভাব্য কোনো সংঘর্ষ বা প্রভাব এড়াতে বিজ্ঞানী মহলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এজেড