সৌরজগতের বাইরে মহাবিশ্বের বিশালতায় প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের চেষ্টার অন্ত নেই। সেই গবেষণায় এবার যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে এক রহস্যময় গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা, যার সঙ্গে পৃথিবীর অবিশ্বাস্য মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। নতুন এই গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এইচডি-১৩৭০১০ বি’ (HD-137010 b)।
পৃথিবীর সঙ্গে কোথায় মিল?
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গ্রহটির কক্ষপথের বৈশিষ্ট্য অনেকটা আমাদের পৃথিবীর মতো। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, পৃথিবী যেমন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন সময় নেয়, এই গ্রহটি তার নক্ষত্রকে একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় ৩৫৫ দিন। অর্থাৎ এই গ্রহের এক বছর পৃথিবীর এক বছরের প্রায় সমান। এছাড়া এটি আকারে পৃথিবীর চেয়ে মাত্র ১.২ গুণ বড়।
নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
গ্রহটি যে নক্ষত্রকে (HD-137010) কেন্দ্র করে ঘুরছে, সেটি একটি বামন নক্ষত্র। এর ভর আমাদের সূর্যের ৭০ শতাংশ। সূর্যের তুলনায় এই নক্ষত্রটির তেজ কিছুটা কম হলেও এর আয়ু অনেক বেশি। ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সূর্যের চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে এই নক্ষত্রটি সক্রিয় থাকবে এবং গ্রহটিকে টিকিয়ে রাখবে।

বিজ্ঞাপন
হিমশীতল পরিবেশে প্রাণের আশা
প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রহটি অত্যন্ত শীতল। এর তাপমাত্রা বর্তমানে হিমাঙ্কের ৬৮ থেকে ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। অর্থাৎ এটি প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহের চেয়েও ঠান্ডা। তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী কেন?
বাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা: বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গ্রহে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা ৫১ শতাংশ।
তরল পানির অস্তিত্ব: যদিও বর্তমানে গ্রহটি বরফে ঢাকা বলে মনে হচ্ছে, তবে মাঝারি মাত্রার কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল থাকলে সেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পৃথিবীর বিবর্তন: বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আমাদের পৃথিবীও তার ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাসে কয়েকবার সম্পূর্ণ তুষারাবৃত গোলকে পরিণত হয়েছিল। হয়তো এই গ্রহটিও এখন তেমন কোনো হিম-পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

কীভাবে আবিষ্কৃত হলো এই গ্রহ?
নাসার বিখ্যাত ‘কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ’-এর মাধ্যমে ট্রানজিট পদ্ধতিতে এই গ্রহটির সন্ধান মিলেছে। যখন কোনো গ্রহ তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নক্ষত্রের আলো সাময়িকভাবে কিছুটা কমে যায়, সেই সংকেত বিশ্লেষণ করেই গ্রহের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: উদ্ভিদ নয়, প্রাণীও নয়: ৪০ কোটি বছর আগের রহস্যময় বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা
ভবিষ্যতে আরও গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যাবে এই ‘শীতল পৃথিবী’তে সত্যিই কোনো প্রাণের স্পন্দন মাথা চাড়া দিচ্ছে কি না। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই আবিষ্কার নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এজেড




