images

বিজ্ঞান

ক্রুড অয়েল কী?

বিজ্ঞান ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৭ এএম

প্রকৃতির বুক থেকে আহরিত যে ঘন, গাঢ় তরল খনিজ সম্পদ আধুনিক সভ্যতার চাকা সচল রেখেছে, তাকেই ক্রুড অয়েল (Crude Oil) বা অপরিশোধিত তেল বলা হয়। এটি মূলত প্রাগৈতিহাসিক কালের উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া একটি জটিল হাইড্রোকার্বন মিশ্রণ।

ক্রুড অয়েল কী?

ক্রুড অয়েল হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি খনিজ তেল যা ভূগর্ভস্থ পাথরের স্তরে জমা থাকে। এটি সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এতে কার্বন এবং হাইড্রোজেনের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে সালফার, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন থাকে। উত্তোলনের পর একে রিফাইনারি বা শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন জ্বালানি ও উপজাত তৈরি করা হয়।

ক্রুড অয়েলের বাহ্যিক রূপ ও বৈশিষ্ট্য

ক্রুড অয়েল দেখতে কেমন হবে তা নির্ভর করে তার রাসায়নিক গঠনের ওপর। তবে সাধারণত এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো-

রঙ: এটি সাধারণত ঘন কালো বা গাঢ় খয়েরি রঙের হয়। তবে মানের ওপর ভিত্তি করে কোনো কোনো ক্রুড অয়েল হালকা হলুদ বা সবুজাভও হতে পারে।

crude-oil-1080x675

ঘনত্ব: এটি বেশ আঠালো এবং ঘন (Viscous) তরল। কোনোটি জলের মতো পাতলা, আবার কোনোটি আলকাতরার মতো ঘন হতে পারে।

গন্ধ: এতে সালফারের উপস্থিতির কারণে অনেক সময় তীব্র ঝাঁঝালো বা পচা ডিমের মতো গন্ধ পাওয়া যায়।

ক্রুড অয়েল থেকে উৎপাদিত জ্বালানি

ক্রুড অয়েলকে রিফাইনারিতে আংশিক পাতন (Fractional Distillation) পদ্ধতিতে ফুটিয়ে বিভিন্ন তাপমাত্রায় পৃথক করা হয়। এখান থেকে মূলত নিচের জ্বালানিগুলো পাওয়া যায়-

পেট্রোল বা অকটেন: হালকা যানবাহনের প্রধান জ্বালানি।

আরও পড়ুন: লোহার টুকরা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার তৈরি জাহাজ ভাসে কেন?

ডিজেল: বাস, ট্রাক, ট্রেন এবং ভারী শিল্পকারখানার ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়।

কেরোসিন: জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি (এভিয়েশন ফুয়েল) এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

ফার্নেস অয়েল: জাহাজের ইঞ্জিন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

Saudi-Oil-69ce7576c96ae

এলপিজি (LPG): পেট্রোলিয়াম গ্যাস যা সিলিন্ডারে ভরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

ক্রুড অয়েল থেকে আরও যা যা পাওয়া যায়: জ্বালানি ছাড়াও ক্রুড অয়েল থেকে বিটুমিন (রাস্তা তৈরির পিচ), লুব্রিক্যান্ট (তৈলাক্তকরণ তেল), এবং প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল পাওয়া যায়।

ক্রুড অয়েল কোথায় পাওয়া যায়?

ক্রুড অয়েল মূলত পৃথিবীর ভূগর্ভে বা সমুদ্রতলের গভীর স্তরে পাওয়া যায়। ভৌগোলিকভাবে এর প্রধান উৎসগুলো হলো-

মধ্যপ্রাচ্য: সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভাণ্ডার।

আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ভেনেজুয়েলাতে প্রচুর পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পাওয়া যায়।

রাশিয়া: বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ।

অন্যান্য অঞ্চল: আফ্রিকা (নাইজেরিয়া, লিবিয়া) এবং সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে (যেমন মেক্সিকো উপসাগর বা উত্তর সাগর) অফশোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে তেল উত্তোলন করা হয়।

এজেড