বিজ্ঞান ডেস্ক
২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
চৈত্র ও বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো ভূ-প্রকৃতি, বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং এই সময়ের প্রচণ্ড উত্তাপ। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঝড়কে বলা হয় 'নর-ওয়েস্টার' (Nor'wester)। কেন এই সময়েই এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো-
১. স্থলভাগের প্রচণ্ড উত্তাপ ও নিম্নচাপ
চৈত্র-বৈশাখ মাসে সূর্য বাংলাদেশের ওপর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দেশের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন স্থলভাগ প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এই উত্তাপের কারণে ওই অঞ্চলের বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং সেখানে একটি স্থানীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

২. জলীয় বাষ্পের জোগান
একদিকে যখন স্থলভাগে নিম্নচাপ তৈরি হয়, অন্যদিকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল ও আর্দ্র বায়ু উত্তর দিকে ধাবিত হয়। এই জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন উত্তপ্ত নিম্নচাপ বলয়ে প্রবেশ করে, তখন তা দ্রুত উপরের দিকে উঠতে শুরু করে।
৩. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি
উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যখন ওপরের স্তরে পৌঁছায়, তখন সেখানে থাকা শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে এটি ঘনীভূত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশাল আকৃতির কালো মেঘ বা কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘ তৈরি হয়। এই মেঘগুলো লম্বালম্বিভাবে অনেক উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, যা কালবৈশাখীর মূল উৎস।

৪. বায়ুর ভারসাম্য রক্ষা (বিস্ফোরক রূপ)
যখন এই মেঘের ভেতরে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি বা শিলা হিসেবে নিচে নামতে শুরু করে, তখন তার সাথে ওপরের শীতল বাতাসও প্রচণ্ড বেগে নিচে নেমে আসে। বায়ুমণ্ডলের এই চাপের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়াই মূলত ঝড়ের রূপ নেয়। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই ঝড় বেশি আসে বলে একে কালবৈশাখী বা 'নর-ওয়েস্টার' বলা হয়।

সংক্ষেপে কারণসমূহ:
দুপুরের তীব্র গরম: যা বায়ুকে হালকা করে উপরে পাঠায়।

হিমালয়ের শীতল বায়ু: যা ওপরের স্তরে অবস্থান করে মেঘ ঘনীভূত হতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: শিলাবৃষ্টি কেন হয়?
বঙ্গোপসাগরের আর্দ্রতা: যা মেঘ তৈরির প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
এজেড