প্রকৃতিতে এখন চৈত্রের দহন। তপ্ত দুপুরের পরেই হঠাৎই আকাশ কালো করে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী, আর তার সাথে ঝমঝমিয়ে পড়ে বরফের টুকরা বা শিলা। বিজ্ঞানের ভাষায় এই শিলাবৃষ্টি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি বায়ুমণ্ডলের এক জটিল প্রক্রিয়ার ফল। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি দেখা যায়।
শিলাবৃষ্টির উৎপত্তির বিজ্ঞান
বিজ্ঞাপন
শিলাবৃষ্টির মূল কারিগর হলো কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘ। যখন প্রচণ্ড গরমে ভূপৃষ্ঠের জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে যায়, তখন সেখানে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ বা 'আপড্রাফট' (Updraft) তৈরি হয়। এই জলীয় বাষ্প যখন বায়ুমণ্ডলের হিমাঙ্কের নিচে (Freezing level) পৌঁছায়, তখন তা অতিশীতল পানির ফোঁটায় পরিণত হয় এবং ধূলিকণাকে কেন্দ্র করে বরফ জমাট বাঁধতে শুরু করে।

চৈত্র-বৈশাখে কেন শীলাবৃষ্টির প্রকোপ বেশি?
বাংলাদেশে মার্চ-এপ্রিল বা চৈত্র-বৈশাখ মাসে শিলাবৃষ্টির প্রধান কারণ হলো এ সময়কার বিশেষ ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত অবস্থান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: রক্তের স্বাদ নোনতা কেন?
তাপমাত্রার তীব্রতা: এই সময়ে স্থলভাগ প্রচণ্ড উত্তপ্ত থাকে, যা শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে।
আর্দ্রতার জোগান: বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প এই মেঘ তৈরিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

উচ্চতা ও তাপমাত্রা: বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে এ সময় তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। যখন শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ জলীয় বাষ্পকে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার উচ্চতায় নিয়ে যায়, তখন তা দ্রুত শিলাখণ্ডে রূপ নেয়।
বরফখণ্ডগুলো নিচে পড়ে কেন?
মেঘের ভেতরে শিলাখণ্ডগুলো যতক্ষণ ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের চাপে ভেসে থাকতে পারে, ততক্ষণ তাদের আকার বাড়তে থাকে। যখন বরফের ওজন বায়ুর চাপের চেয়ে বেশি হয়ে যায় অথবা ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই তা মাধ্যাকর্ষণ বলের টানে পৃথিবীতে নেমে আসে। শিলাখণ্ডের আকার বড় হলে তা মাটিতে পড়ার আগে গলে যাওয়ার সময় পায় না, ফলে আমরা ভারী শিলাবৃষ্টি দেখতে পাই।

কৃষিতে প্রভাব ও সতর্কতা
শিলাবৃষ্টির ফলে এই সময়ে আম, লিচু এবং বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু এটি একটি আকস্মিক প্রক্রিয়া, তাই মেঘের ঘনঘটা দেখলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া এবং খোলা জায়গায় গবাদি পশু না রাখার পরামর্শ দেন আবহাওয়াবিদগণ।
এজেড

