বিজ্ঞান ডেস্ক
২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ এএম
বসন্তের বিদায় লগ্ন আর গরমের শুরুতেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। আর এই কাঠফাটা রোদে জনজীবনে স্বস্তির জন্য ফ্যান, এসি বা কুলারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই বাড়তি খরচ এখন বড় চিন্তার কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই বিদ্যুৎ বিল অনায়াসেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১. আলোর ব্যবহারে আধুনিকতা
এখনও অনেক বাড়িতে পুরনো ফিলামেন্ট বাল্ব ব্যবহার করা হয়, যা প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। এর পরিবর্তে উন্নত মানের এলইডি (LED) বাল্ব ব্যবহার করুন। এতে একই সমান আলো পাওয়া যাবে কিন্তু বিদ্যুতের ইউনিট খরচ হবে অনেক কম।
![]()
২. অলস সুইচ বন্ধ রাখা
প্রয়োজন শেষে ফ্যান বা লাইটের সুইচ বন্ধ রাখা একটি অতি সাধারণ অভ্যাস হলেও অনেকে এটি গুরুত্ব দেন না। ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, ব্যবহারের পর মোবাইল চার্জার বা ল্যাপটপের অ্যাডাপ্টার প্লাগ পয়েন্টে লাগিয়ে রাখলে তা সামান্য হলেও বিদ্যুৎ টানে। তাই কাজ শেষে প্লাগ থেকে এগুলো খুলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি বর্জন
বাড়িতে যদি অনেক পুরনো ফ্রিজ, ফ্যান বা কোনো বৈদ্যুতিক মোটর থাকে যা ঠিকমতো কাজ করছে না, তবে তা দ্রুত মেরামত বা বদলে ফেলুন। ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি বা পুরনো কয়েলযুক্ত ইলেকট্রনিক সামগ্রী স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ শোষণ করে বিলের অংক বাড়িয়ে দেয়।

৪. এসির সঠিক ব্যবহার
গরম কমাতে এসির বিকল্প নেই, তবে এসি ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন আনলে বিল সাশ্রয় সম্ভব। উইন্ডো এসির তুলনায় ইনভার্টার প্রযুক্তির স্প্লিট এসি অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এছাড়া এসি চালানোর সময় ঘরের তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখলে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আরও পড়ুন: বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় কী?
৫. প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠান্ডা রাখা
সব সময় যান্ত্রিক শীতলতার ওপর নির্ভর না করে কিছু প্রাকৃতিক কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখা বা সম্ভব হলে হালকা ভেজা পর্দা ব্যবহার করলে বাইরের লু হাওয়া ঘরে ঢুকতে পারে না। এতে ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে এবং এসি বা ফ্যানের ওপর নির্ভরতা কমে আসে।
এজেড