বিজ্ঞান ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম
মেডিকেল বিজ্ঞানে এক অভাবনীয় মাইলফলক অর্জন করলেন কানাডার বিজ্ঞানীরা। ল্যাবরেটরিতে কোনো ধাতব যন্ত্র নয়, বরং কোষ ও রক্ত-মাংসের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে জীবন্ত 'নকল হৃদয়'। মানুষের শরীরে কোনো নতুন ওষুধের ট্রায়াল বা ইঁদুরের ওপর নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালানোর দিন বোধহয় এবার শেষ হতে চলেছে। বিশ্বের প্রথম এই ত্রিমাত্রিক (3D) কৃত্রিম হৃদপিণ্ডটি একদম আসলের মতোই ধুকপুক করে এবং এর শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহের ক্ষমতা রয়েছে।
ধাতু নয়, তৈরি কোষ-কলা দিয়ে
কানাডার মন্ট্রিয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই কৃত্রিম হৃদপিণ্ড তৈরিতে ইঁদুরের কোষ, কলা এবং স্নায়ু ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এর গঠন একদম প্রাকৃতিক হৃদপিণ্ডের মতো। দীর্ঘদিনের গবেষণার পর তারা এমন এক ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরি করেছেন যেখানে হৃদপেশিগুলো স্বাভাবিকভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: হাতির শুঁড়ের লোম যেন এক জৈব সেন্সর: চিপস ভাঙবে না, চিনবে পিনাটও!
ওষুধ পরীক্ষায় আসবে নির্ভুল ফল
এতদিন কৃত্রিম হৃদযন্ত্র বলতে ধাতব কোনো যন্ত্রকে বোঝানো হতো, যা মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের উপযোগী হলেও ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য কার্যকর ছিল না। ওষুধের প্রভাবে হৃদপিণ্ডের কোষে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, তা বোঝার জন্য জীবন্ত কোষের প্রয়োজন ছিল। নতুন এই আবিষ্কারের ফলে বিজ্ঞানীরা সরাসরি কোষ-কলা সমৃদ্ধ হৃদযন্ত্রে ওষুধের প্রয়োগ করতে পারবেন। এতে মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ঝুঁকি অনেক কমে আসবে।

চিপ ও সেন্সরের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ
‘ন্যানো মাইক্রো স্মল’ জার্নালে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, এই কৃত্রিম হৃদপিণ্ডে সিলিকন চিপ ও বিশেষ জেল বসানো হয়েছে যা হৃদপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এতে দুই ধরনের সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে যা হৃদযন্ত্রের ভেতরের সূক্ষ্ম বদলগুলো গবেষকদের জানিয়ে দেয়।
আগামীর লক্ষ্য: হৃদরোগ নিরাময়
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নকল হৃদযন্ত্রে ইতিমধ্যেই ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং এটি প্রত্যাশিত সাড়া দিচ্ছে। আপাতত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে:
হঠাৎ হৃদরোগ (Heart Attack) ঠেকানোর উপায়।
অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনকে (Arrhythmia) নিয়মিত করার ঔষধ তৈরি।
জটিল অস্ত্রোপচারের নতুন পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।
এজেড