হাতির বিশাল দেহ এবং স্থূল চামড়ার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর স্পর্শকাতরতা। সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাতির শুঁড়ে থাকা প্রায় ১০০০টি বিশেষ লোম বা হুইস্কার কেবল সাধারণ লোম নয়, বরং এগুলো একেকটি ‘ইন্টেলিজেন্ট’ সেন্সর। এই হুইস্কারগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে, একটি হাতি তার বিশাল শুঁড় দিয়ে একটি মচমচে টরটিলা চিপস না ভেঙে তুলে নিতে পারে কিংবা মাটির ওপর থেকে একটি ছোট চিনাবাদামও (Peanut) নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে।
বিড়ালের হুইস্কারের সাথে মিল
বিজ্ঞাপন
ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট এবং হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মাইক্রো-সিটি স্ক্যান ব্যবহার করে দেখেছেন যে, হাতির এই হুইস্কারগুলো ইঁদুরের মতো লম্বাটে বা গোলাকার নয়। বরং এগুলো অনেকটা বিড়ালের হুইস্কারের মতো চ্যাপ্টা এবং ব্লেডের মতো। এদের গোড়ার দিকটা ফাঁপা এবং ভেতরটা অনেকটা ভেড়ার শিং বা ঘোড়ার খুরের মতো ছিদ্রযুক্ত (Porous)। এই বিশেষ গঠন হুইস্কারের ওজন কমায় এবং শত শত পাউন্ড খাবার খাওয়ার সময় সেগুলোকে আঘাত থেকে রক্ষা করে।
'এমবডিড ইন্টেলিজেন্স' বা উপাদানের বুদ্ধিমত্তা
গবেষণায় দেখা গেছে, হাতির বডি হেয়ার বা শরীরের লোমগুলো গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত শক্ত। কিন্তু শুঁড়ের হুইস্কারের গোড়া খুব শক্ত হলেও আগার দিকটা রবারের মতো নরম। প্রকৌশলবিদ্যায় একে বলা হয় ‘ফাংশনাল গ্রেডিয়েন্ট’। এই শক্ত-থেকে-নরমের রূপান্তরই হাতিকে বুঝতে সাহায্য করে যে, কোনো বস্তু হুইস্কারের ঠিক কোন অংশে স্পর্শ করেছে। গবেষকরা একে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ বা উপাদানের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম ‘হুইস্কার ওয়ান্ড’ ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি
গবেষণার স্বার্থে বিজ্ঞানীরা থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে একটি কৃত্রিম ‘হুইস্কার ওয়ান্ড’ তৈরি করেন। গবেষক ক্যাথরিন জে. কুচেনবেকার সেই লাঠি নিয়ে চলার সময় লক্ষ্য করেন যে, কোনো বস্তুর সাথে এর স্পর্শ কেবল অনুভবের মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব, দেখার প্রয়োজন পড়ে না।
আরও পড়ুন: ব্যাঙের বিষ কি সাপের মতো প্রাণঘাতী? জানুন বিষাক্ত ব্যাঙ চেনার উপায়
এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, হাতির এই প্রাকৃতিক নকশা অনুসরণ করে এমন সেন্সর তৈরি করা সম্ভব হবে, যা রোবটকে আরও নিখুঁত এবং স্পর্শকাতর তথ্য প্রদানে সাহায্য করবে।
এজেড

