images

বিজ্ঞান

ব্যাঙের বিষ কি সাপের মতো প্রাণঘাতী? জানুন বিষাক্ত ব্যাঙ চেনার উপায়

বিজ্ঞান ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

প্রকৃতিতে সাপ বললেই আমাদের চোখে বিষের ছবি ভেসে ওঠে, কিন্তু ব্যাঙের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত বিষের কথা ভাবি না। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, পৃথিবীতে এমন কিছু প্রজাতির ব্যাঙ রয়েছে যাদের বিষ সাপের চেয়েও অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী। তবে সাপের বিষ ছড়ানোর পদ্ধতি এবং ব্যাঙের বিষের কার্যকারিতার মধ্যে রয়েছে মৌলিক কিছু পার্থক্য।

সাপের বিষ বনাম ব্যাঙের বিষ: পার্থক্য কোথায়?

সাপ সাধারণত শিকার করতে বা আত্মরক্ষার জন্য সামনের বিষদাঁত ব্যবহার করে বিষ প্রয়োগ করে (Venomous)। কিন্তু ব্যাঙের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; ব্যাঙ সাধারণত কামড় দিয়ে বিষ ঢোকায় না। এদের বিষ থাকে চামড়ার নিচে থাকা বিশেষ গ্রন্থিতে (Poisonous)। সাপের বিষ রক্ত বা স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি প্রবেশ করলে কাজ করে, অন্যদিকে বিষাক্ত ব্যাঙকে স্পর্শ করলে বা ভক্ষণ করলে সেই বিষ কাজ শুরু করে। অর্থাৎ, সাপ সক্রিয়ভাবে বিষ প্রয়োগ করে, আর ব্যাঙ পরোক্ষভাবে আত্মরক্ষা করে।

frog_pic

ব্যাঙের বিষ কতটুকু বিপজ্জনক?

সব ব্যাঙ বিষাক্ত নয়, তবে যারা বিষাক্ত তারা অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার 'গোল্ডেন পয়জন ফ্রগ' (Golden Poison Frog) এর কথা ধরা যাক। বিজ্ঞানীদের মতে, এই একটি ছোট ব্যাঙের চামড়ায় যে পরিমাণ বিষ থাকে, তা দিয়ে অন্তত ১০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলা সম্ভব। এদের বিষের মূল উপাদান হলো 'বাট্রাকোটক্সিন' (Batrachotoxin), যা মানুষের হৃদযন্ত্র বা স্নায়ুতন্ত্রকে মুহূর্তেই বিকল করে দিতে পারে। এমনকি এই ব্যাঙের ওপর দিয়ে কোনো পিঁপড়া বা পোকা হেঁটে গেলেও বিষের প্রভাবে সেটি মারা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: উদ্ভিদ নয়, প্রাণীও নয়: ৪০ কোটি বছর আগের রহস্যময় বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা

কেন কিছু ব্যাঙ বিষাক্ত হয়?

মজার বিষয় হলো, অধিকাংশ বিষাক্ত ব্যাঙ জন্মগতভাবে বিষ নিয়ে জন্মায় না। এরা প্রকৃতি থেকে যেসব বিশেষ প্রজাতির পোকা বা পিঁপড়া খায়, সেই পোকার শরীর থেকে টক্সিন সংগ্রহ করে নিজেদের শরীরে বিষ জমা করে। খাঁচায় বন্দি বা চাষ করা বিষাক্ত ব্যাঙকে যদি সাধারণ খাবার দেওয়া হয়, তবে ধীরে ধীরে তাদের বিষাক্ত হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে যায়।

frog

বিষাক্ত ব্যাঙ চেনার উপায়

প্রকৃতিতে ব্যাঙ যত বেশি উজ্জ্বল এবং রঙিন হবে, তার বিষাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। লাল, নীল, উজ্জ্বল হলুদ বা কমলা রঙের ব্যাঙগুলো সাধারণত শিকারিকে সতর্ক করার জন্য এই রং ধারণ করে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'অ্যাপোসেমাটিজম' (Aposematism)। সাধারণ কুলা ব্যাঙ বা গেছো ব্যাঙের শরীরেও হালকা বিষাক্ত রস থাকতে পারে যা মানুষের চোখে বা মুখে লাগলে জ্বালাপোড়া করে, কিন্তু তা প্রাণঘাতী নয়।

53957-bang

সতর্কতা ও করণীয়

আমাদের দেশে সাধারণত অত্যন্ত বিষাক্ত ব্যাঙের প্রজাতি দেখা যায় না, তবে অজানা কোনো উজ্জ্বল রঙের ব্যাঙ খালি হাতে না ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে পোষা প্রাণী বা শিশুরা যাতে এই ধরনের ব্যাঙ মুখে না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যাঙ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এদের বিরক্ত না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেষ্ঠ উপায়।

এজেড