বিজ্ঞান ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
চোখের সামনেই ছিল, অথচ কয়েক হাজার বছর ধরে তা ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। সময়ের বিবর্তনে কিছুটা আবছা হয়ে যাওয়া সেই ‘অদৃশ্য’ নিদর্শনেই এবার খুঁজে পাওয়া গেল মানব সভ্যতার প্রাচীনতম শৈল্পিক স্বাক্ষর। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের এক নির্জন গুহায় ৬৭ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো কিছু লালচে গুহাচিত্রের সন্ধান পেয়েছেন নৃতত্ত্ববিদেরা।
গবেষকদের দাবি, সৃজনশীল ভাবনায় তৈরি এই হাতের ছাপগুলোই সম্ভবত এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত পৃথিবীর প্রাচীনতম গুহাচিত্র, যা আদিম মানুষের শৈল্পিক চেতনার এক অনন্য দলিল।
আবিষ্কারের নেপথ্যে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূ-রসায়নবিদ ম্যাক্সিম অবার্টের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল সুলাওয়েসি দ্বীপে এই অনুসন্ধান চালায়। বোর্নিওর পূর্ব দিকে অবস্থিত এই দ্বীপে আগেও প্রাচীন নিদর্শনের দেখা মিলেছে, তবে এবারের আবিষ্কারটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। অন্তত ৬৭,৮০০ বছর আগেকার এই হাতের ছাপগুলো কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গবেষকেরা।

চিত্র তৈরির কৌশল ম্যাক্সিম অবার্ট জানান, গুহার দেওয়ালে হাত রেখে তার চারপাশে লাল রঙ ছড়িয়ে এই শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছিল। আদিম মানুষ সম্ভবত মুখ দিয়ে রঙ ছিটিয়ে বা কোনো আদিম যন্ত্র ব্যবহার করে এই নকশা ফুটিয়ে তুলত। এই গুহায় মোট সাতটি একই ধরনের হাতের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই একই গুহায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ বছর পুরনো ঘোড়া, হরিণ ও শূকরের ছবি থাকলেও, এই অতি প্রাচীন হাতের ছাপগুলো পর্যটকদের নজরে আসেনি এতকাল।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী সৌরঝড়ের মুখে পৃথিবী: অচল হতে পারে জিপিএস ও স্যাটেলাইট সেবা
ইতিহাসের নতুন সমীকরণ এর আগে ফ্রান্সের লাসকক্স এবং স্পেনের গুহায় ৬৪ হাজার বছরের পুরনো নিদর্শনের দেখা মিলেছিল, যা মূলত নিয়ানডারথালদের সৃষ্টি বলে মনে করা হয়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার এই নতুন আবিষ্কার সেই সময়কেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। গবেষকদের অনুমান, এই গুহাচিত্রগুলো আধুনিক মানুষ বা ‘হোমো সেপিয়েন্স’-এর তৈরি প্রাচীনতম নিদর্শন হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া কিছু ছাপ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, সুলাওয়েসির এই নিদর্শনটি যে সৃজনশীল চিন্তার ফসল, তা নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এখন একমত।
এই আবিষ্কার কেবল পৃথিবীর প্রাচীনতম শিল্পের তকমা পাচ্ছে না, বরং মানুষের বিবর্তন ও শিল্পমনস্কতা নিয়ে ইতিহাসের পুরনো ধারণাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
এজেড