সূর্য থেকে ধেয়ে আসা এক বিশাল শক্তিশালী সৌরঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সৌর বিকিরণ ঝড়। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার (SWPC) এই ঝড়কে পাঁচ মাত্রার মধ্যে চার নম্বর বা ‘এস৪’ (S4) স্তরের গুরুতর ঝড় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে পৃথিবীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ গ্রিড মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সৌরঝড় কী?
বিজ্ঞাপন
সহজ কথায়, পৃথিবী পৃষ্ঠে যেমন বাতাসের কারণে ঝড় হয়, সূর্য থেকেও তেমনি তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ ও চার্জযুক্ত কণার তীব্র স্রোত মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে সৌরঝড় বলা হয়। এটি মূলত সূর্যের ভেতরে ঘটা বিশাল কোনো বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হওয়া শক্তির প্রবাহ। যখন এই কণাগুলো পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সীমানায় পৌঁছায়, তখন তাকে আমরা সৌরঝড় হিসেবে অনুভব করি।
সৌরঝড় কেন হয়?
সূর্যের উপরিভাগে যখন চুম্বকীয় শক্তির প্রচণ্ড অস্থিরতা তৈরি হয়, তখন সেখান থেকে প্লাজমা এবং চুম্বকীয় ক্ষেত্রের বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) বলা হয়। এছাড়া সূর্যের দাগ বা সানস্পট থেকে আকস্মিক বিকিরণ বা সোলার ফ্লেয়ার নির্গত হওয়ার ফলেও এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়। সূর্যের এই অস্থিরতা যখন পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে, তখনই সেই বিকিরণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানে।
![]()
বিজ্ঞাপন
সৌরঝড়ের প্রভাব: ঝুঁকি ও সৌন্দর্য
এই শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাব বহুমুখী হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মূলত দুই ধরনের প্রভাবের কথা জানিয়েছেন-
প্রযুক্তিগত বিপর্যয়: এই ঝড়ের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জিপিএস সিগন্যালে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। ২০০৩ সালের এমন এক ঝড়ে সুইডেনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া উচ্চ উচ্চতায় বিমান চলাচল এবং মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীরা বিকিরণের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
চোখধাঁধানো মেরুজ্যোতি: ঝড়ের একটি ইতিবাচক দিক হলো আকাশের অপরূপ সৌন্দর্য। সূর্য থেকে আসা চার্জযুক্ত কণা যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে, তখন উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর আকাশে রঙিন আলোর ঝলক বা ‘অরোরা’ তৈরি হয়। এবারের ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা ও উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত এই মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: সমুদ্রে ৫৮ ফুটের রাক্ষুসে ঢেউ: ১৩০০ বছরে একবার ঘটে এই বিস্ময়কর ঘটনা
ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা: ঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।
সতর্কতা: ইতিমধ্যে নাসা, বিমান সংস্থা এবং বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে এই ঝড়ের সর্বোচ্চ প্রভাব অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এজেড

