images

বিজ্ঞান

সমুদ্রে ৫৮ ফুটের রাক্ষুসে ঢেউ: ১৩০০ বছরে একবার ঘটে এই বিস্ময়কর ঘটনা

বিজ্ঞান ডেস্ক

২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

শান্ত সমুদ্রের বুকে হঠাৎ যেন এক দানবের আবির্ভাব। কোনো ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্প ছাড়াই আচমকা পানির স্তর উঠে গেল ৫৮ ফুট উচ্চতায়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘রোগ ওয়েভ’ বা রাক্ষুসে ঢেউ। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উপকূলে ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপের কাছে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সবচেয়ে শক্তিশালী রাক্ষুসে ঢেউ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতি ১৩০০ বছরে মাত্র একবার দেখা যায়।

আরও পড়ুন: প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

কী এই রাক্ষুসে ঢেউ বা রোগ ওয়েভ?

সমুদ্রের কোনো একটি নির্দিষ্ট ঢেউ যখন তার চারপাশের অন্যান্য ঢেউগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ বা তার বেশি উচ্চতায় হঠাৎ গর্জে ওঠে, তখনই তাকে রাক্ষুসে ঢেউ বলা হয়। ১৯৯৫ সালে নরওয়ের উপকূলে প্রথম এই ধরনের ঢেউ বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে ২০২০ সালে ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপে দেখা দেওয়া ৫৮ ফুটের এই ঢেউটি উচ্চতায় সর্বোচ্চ না হলেও শক্তির দিক দিয়ে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। কারণ এটি আশপাশের সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি উঁচু ছিল।

7NYIHVKO4VEAHFHU4Z6OJ7HKI4

নাবিকদের মিথ যখন ধ্রুব সত্য

দীর্ঘকাল ধরে মাঝসমুদ্রে হঠাৎ বিশাল ঢেউয়ের গল্পগুলোকে নাবিকদের কল্পনাপ্রসূত কাহিনি বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে একের পর এক রেকর্ড এই ‘মিথ’ বা লোককথাকে ধ্রুব সত্যে পরিণত করেছে। সত্তরের দশকে মাঝসমুদ্রে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বড় জাহাজ বা মৎস্যজীবীদের নৌকার কোনো হদিস না পাওয়ার পেছনেও এই রাক্ষুসে ঢেউ দায়ী থাকতে পারে বলে এখন মনে করছেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা।

skynews-rogue-wave_5673312

উষ্ণায়ন ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউয়ের গতিবিধি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ২০২০ সালের এক সমীক্ষায় আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে সমুদ্রের তরঙ্গের উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক এক গবেষণা দাবি করছে, ভবিষ্যতে সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা বর্তমানে যা ভাবা হচ্ছে তার চেয়েও চার গুণ বেশি হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ব্রিটিশ কলম্বিয়া বা নরওয়ের এই রেকর্ডও ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

MIT-Rogue-Waves

পূর্বাভাস ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি

মাঝসমুদ্রে হঠাৎ তৈরি হওয়া এই রাক্ষুসে ঢেউয়ের সঠিক কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যঘেরা। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও নজরদারির মাধ্যমে এর পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সমুদ্র বিশেষজ্ঞ স্কট বিটির মতে, এই ঢেউয়ের অপ্রত্যাশিত চরিত্র এবং পানির তীব্র আঘাত সামুদ্রিক অভিযানের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সঠিক সময়ে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হলে সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানি ও জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে।

তথ্যসূত্র: এবিপি

এজেড