মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

যুগান্তকারী উদ্ভাবন

প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ এখন পরিবেশগত সংকট ছাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মানুষের রক্ত, ফুসফুস এমনকি মস্তিষ্কেও ঢুকে পড়ছে বিপজ্জনক মাইক্রোপ্লাস্টিক। ঠিক এই জটিল পরিস্থিতিতেই বিজ্ঞানীদের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। গবেষকরা এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শনাক্ত করেছেন, যারা প্লাস্টিককে ভেঙে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ক্ষুদ্র জীবেরা ভবিষ্যতে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় ‘গেম-চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ইউরেনিয়াম কী, এটি কেন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু?

প্লাস্টিক ধ্বংসকারী সেই বিশেষ ব্যাকটেরিয়া

২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানীরা ‘আইডিওনেলা সাকাইয়েনসিস’ (Ideonella sakaiensis) নামে একটি ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান। এটি মূলত পিইটি (PET) বা প্লাস্টিক বোতলে ব্যবহৃত উপাদান ভাঙতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া দুটি বিশেষ এনজাইম তৈরি করে যা প্লাস্টিকের দীর্ঘ পলিমার চেইনগুলোকে ভেঙে ফেলে। পরে সেগুলোকে সাধারণ রাসায়নিক উপাদানে পরিণত করে ব্যাকটেরিয়ার শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

images

ছত্রাকের ভূমিকা এবং কার্যকারিতা

শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, গবেষণায় দেখা গিয়েছে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির ছত্রাকও পলিথিন এবং পলিউরেথেনের মতো কঠিন প্লাস্টিক ভাঙতে কার্যকর। বিশেষ করে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে এই ছত্রাকগুলোর প্লাস্টিক ধ্বংস করার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকে। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র জীবগুলো যেভাবে প্লাস্টিককে গ্রাস করছে, তা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের রীতিমতো অবাক করেছে।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত মোট প্লাস্টিকের মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ রিসাইক্লিং করা সম্ভব হয়। বাকি বিশাল অংশ জমে থাকে ল্যান্ডফিল, নদী ও সমুদ্রে। প্লাস্টিক খেতে সক্ষম এই জীবগুলো ব্যবহার করা গেলে-

সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে।

প্রচলিত রিসাইক্লিং পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম শক্তি খরচে প্লাস্টিক ধ্বংস করা যাবে।

পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরির ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

plastic-eating-bacteria-cover-Cropped

সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এই সমাধানটি এখনই মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাকটেরিয়াগুলো বেশ ধীরগতিতে প্লাস্টিক ভাঙে এবং সব ধরনের প্লাস্টিকের ওপর এরা সমান কার্যকর নয়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষকরা এখন ল্যাবে জেনেটিকভাবে উন্নত এনজাইম তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে এটি শিল্প কারখানায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায়। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসবে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর