images

ইসলাম

শবে কদর চেনার উপায়: ৫টি উল্লেখযোগ্য হাদিস

ধর্ম ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৩, ০১:০৬ পিএম

মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ রাত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। পবিত্র রমজানের শেষ দশকে রয়েছে এই রাত। এটি কোরআনুল কারিম নাজিলের রাত। এই রাতের সম্মানে ‘সুরাতুল কদর’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরাও আছে পবিত্র কোরআনে। এ সুরায় বলা হয়েছে—‘লাইলাতুল কদরে কোরআন নাজিল হয়েছে, এটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এবং এ রাতে ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। এ রাতের ফজর পর্যন্ত প্রশান্তি বর্ষিত হয়।’ (দেখুন সুরা কদর: ১-৫)

এই মহান রাতে গুরুত্বের সঙ্গে নামাজ-দোয়া ও জিকির-আজকারসহ প্রত্যেকটি নেক আমলের সীমাহীন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। প্রিয়নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (সহিহ বুখারি: ৩৫)

বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ২৭ রমজানের রাতটি শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হলেও শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতেই শবে কদরের সম্ভাবনা রয়েছে। মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’ (বুখারি: ২০১৭)

এগুলো সবই সম্ভাবনার কথা। মূলত মহানবী (স.) নির্দিষ্ট করে শবে কদরের তারিখ উল্লেখ করেননি। অবশ্য শবে কদরের রাত চেনার বেশ কিছু আলামতের কথা তিনি বলেছেন। এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদিস এখানে তুলে ধরা হলো-

হাদিস-১ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (স.) বলেছেন, ‘ওই রাতের আলামত বা লক্ষণ হলো, রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে। তবে উদয়ের সময় তার কোনো তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (মুসলিম: ১৬৭০; ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ১৬৫৫)

আরও পড়ুন
শবে কদরের দোয়া
রমজানের শেষ দশক: প্রত্যেক বিজোড় রাতে চারটি আমল মিস করবেন না

হাদিস-২ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদরের রাতটি হবে প্রফুল্লময়। না গরম, না ঠাণ্ডা। সেদিন সূর্য উঠবে লালবর্ণে, তবে দুর্বল থাকবে।’ (ইবনু খুজাইমাহ: ২১৯২)

হাদিস-৩ নবীজি (স.) বলেন, ‘লাইলাতুল কদরের আলামত হচ্ছে, স্বচ্ছ রাত, যে রাতে চাঁদ উজ্জ্বল হবে, আবহাওয়ায় প্রশান্তি (সাকিনাহ) থাকবে। না ঠাণ্ডা, না গরম। সকাল পর্যন্ত (আকাশে) কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। সে রাতের চাঁদের মতোই সূর্য উঠবে (তীব্র) আলোকরশ্মি ছাড়া। শয়তান সেই সময় বের হয় না।’ (মুসনাদ আহমদ: ২২৭৬৫)

হাদিস-৪ এক হাদিসে নবী (স.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর উজ্জ্বল একটি রাত। না গরম, না ঠাণ্ডা। সে রাতে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৩/১৭৯; সহিহ আল-জামে: ৫৪৭২)

হাদিস-৫ নবী (স.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর রয়েছে সপ্তম, নবম অথবা বিংশ, যে রাতে (পৃথিবীর) নুড়ি পাথরের চেয়ে বেশি সংখ্যক ফেরেশতা জমিনে নেমে আসে।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৩/১৭৮; সহিহ আল-জামে: ৫৪৭৩)

এছাড়াও বিভিন্ন বর্ণনায় শবে কদরের আরও কিছু আলামতের উল্লেখ রয়েছে, যেমন মৃদুবাতাস বইবে গোটা রাতজুড়ে, সে রাতের ইবাদতে মানুষ বেশি তৃপ্তি পাবে, ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণও হতে পারে ইত্যাদি। আবার ওই রাতটি সম্পর্কে কোনো বান্দাকে আল্লাহ ইলহাম করতে পারেন বা স্বপ্নে জানিয়েও দিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে কদর নসিব করুন। রমজানের শেষ ১০ দিন বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।