Dhaka Mail Logo

ইসলাম

যতটুকু সম্পদ থাকলে ভিক্ষা করা যাবে না

ধর্ম ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:৩১ পিএম

ইসলাম বরাবরই ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করে। একান্ত নিরুপায় না হলে ভিক্ষার হাত বাড়ানো খুবই নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ওপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম। ওপরের হাত দাতার, আর নিচের হাত ভিক্ষুকের। (বুখারি: ১৪২৯) 

ভিক্ষাবৃত্তি না করা সম্মানের প্রতীক। যারা মানুষের কাছে হাত পাতার পরিবর্তে কাজকে বেছে নেন, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান রক্ষা করেন। মুয়াল্লা ইবনে আসাদ (রহ.) জুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (স.) বলেছেন, তোমাদের কেউ রশি নিয়ে লাকড়ির আঁটি বেঁধে তা বিক্রি করে, এতে আল্লাহ তাআলা তার সম্মান রক্ষা করেন, এটা তার জন্য মানুষের কাছে ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম! লোকজনের কাছে এমন চাওয়ার চেয়ে, যে চাওয়ায় কিছু পাওয়া যেতে পারে বা না-ও পারে। (বুখারি: ২৩৭৩)

অর্থাৎ একান্ত নিরুপায় হওয়া ছাড়া পারতপক্ষে ভিক্ষাবৃত্তির অনুমতি ইসলামে নেই। বিশেষ করে যাদের ঘরে একদিন একরাতের খাবারের ব্যবস্থা আছে, তাদের জন্য অন্যের কাছে ভিক্ষার হাত বাড়ানো অনুচিত। কেননা এ ধরনের লোকদের নবীজি (স.) অমুখাপেক্ষীদের কাতারে আখ্যা দিয়েছেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কারো কাছে এমন সম্পদ থাকলেই সেই অমুখাপেক্ষী বিবেচিত হবে, যা তার সকাল-সন্ধ্যার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট অথবা দিন-রাতের জন্য যথেষ্ট। (আবু দাউদ: ১৬২৯)

আরও পড়ুন: 
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে দোয়াটি পড়তে ভুলবেন না
যেসব কারণে রোজা ভাঙলে কাফফারা দিতে হয় না
রোজা রেখে নাটক-সিনেমা দেখা যাবে?

হাদিসে আরেক স্তরের অমুখাপেক্ষীরও বর্ণনা পাওয়া যায়। তারা এমন ব্যক্তি— যাদের কাছে ৪০ থেকে ৫০ দিরহাম সমপরিমাণ রৌপ্যমুদ্রা বা তার সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি নিষেধ। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, প্রয়োজন মেটানোর মতো কিছু থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি মানুষের কাছে ভিক্ষা চায়, কেয়ামতের দিন সে এভাবে উপস্থিত হবে যে ভিক্ষাবৃত্তির কারণে তার চেহারায় খামচানোর বা মারের বা আঘাতের ক্ষতচিহ্ন থাকবে। বলা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ (স.) কী পরিমাণ সম্পদের কারণে একজন অমুখাপেক্ষী হবে? তিনি বললেন, ৫০ দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) বা সে পরিমাণ মূল্যের স্বর্ণ। (তিরমিজি: ৬৪৭)

অন্য হাদিসে আহমদ ইবন সুলায়মান (রহ.)..আমর ইবন শুআয়ব (রহ.) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সাহায্য চায় অথচ তার ৪০টি দিরহাম রয়েছে সেই পীড়াপীড়িকারী। (নাসায়ি: ২৫৯৪)

ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত নামক গ্রন্থে মহরের আলোচনায় ১০ দিরহাম রুপার হিসাব দেখানো হয়েছে ২.৬২৫ তোলা। সেই হিসাবে ৪০ দিরহাম রুপার পরিমাণ দাঁড়ায় ১০.৫ তোলা। আর যদি ৫০ তোলার হাদিসের আলোকে হিসাব করা হয়, তাহলে দাঁড়ায় ১৩.১২৫ তোলা। অর্থাৎ কারো কাছে এই পরিমাণ রুপার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে তার জন্য ভিক্ষা করা জায়েজ হবে না। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ৬/২৪৪)

জাকাত বা সদকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের লোকদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। আমিন।