images

ইসলাম

কোরআন শরিফ ৩০ পারা কেন

ধর্ম ডেস্ক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম

কোরআনুল কারিম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ। বিশ্বমানবতার চিরন্তন মুক্তির সনদ, যার তেলাওয়াত, অধ্যয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে রয়েছে মানবজাতির কল্যাণ ও সফলতা। পবিত্র কোরআনের গুরুত্ব তুলে ধরে মহান আল্লাহ প্রিয়নবী (স.)-কে লক্ষ্য করে বলেন, إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا ‘আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী।’ (সুরা মুজাম্মিল: ৫)

হাশরের ময়দানে বান্দার নেক আমল নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, দান-সদকাসহ সব ইবাদতের একটা আকৃতি থাকবে এবং বান্দার মুক্তির জন্য সেগুলোর ভূমিকা থাকবে। এ সবের মাঝে কোরআনের ভূমিকা থাকবে বেশি। আবু উমামা আল বাহিলি (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (স.) বলেন, ‘ তোমরা কোরআন পড়ো, কেননা তেলাওয়াতকারীদের জন্য কোরআন সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮০৪) 

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কোরআন এমন সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হবে। যে ব্যক্তি কোরআনকে পথপ্রদর্শক বানাবে কোরআন তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। যে ব্যক্তি কোরআনকে পশ্চাতে ফেলে রাখবে কোরআন তাকে জাহান্নামে পাঠাবে।’ (ইবনে হিব্বান: ১২৪)

পবিত্র কোরআনকে ৩০ পারায় বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিদিন এক পারা করে পড়লে মাসে এক খতম শেষ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবায়ে কেরামকে প্রতি মাসে অন্তত এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ যাতে সে নির্দেশ পালন করতে পারে এবং পবিত্র কোরআনকে সহজ করার নিমিত্তে পূর্ণ কোরআনকে ৩০ পারায় ভাগ করা হয়েছে। (বুখারি: ১৯৭৮, ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ২/৭৮)

আরও পড়ুন: কোরআন না বুঝে ও বুঝে পড়ার পার্থক্য

আলেমদের পরামর্শ হলো—হাফেজ নন এমন ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন এক পারা কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। যেন মাসে এক খতম পূর্ণ হয়ে যায়। আর হাফেজদের তিন পারা তেলাওয়াত করা উচিত। 

হাদিসে কোরআন তেলাওয়াতকারীদের আল্লাহর পরিজন বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কতক লোক আল্লাহর পরিজন। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীগণ আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ: ২১৫)

হাশরে কোরআন তেলাওয়াতকারীদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হবে। ‘নবী (স.) বলেছেন, কোরআন কেয়ামত দিবসে হাজির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু! একে (কোরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন..।’ (তিরমিজি: ২৯১৫)

আরও পড়ুন: হাফেজদের সম্মানে নবীজির ঘোষণা

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (স.) বলেছেন, (কেয়ামতের দিন) কোরআনের বাহককে বলা হবে, পাঠ করতে থাকো এবং উপরে আরোহণ করতে থাকো এবং দুনিয়ায় যেভাবে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে, ঠিক সেইরূপে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে থাকো। যে আয়াতে তোমার পাঠ সমাপ্ত হবে সেখানেই তোমার স্থান।’ (তিরমিজি: ২৯১৪)

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সহি শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে, তারা নেককার সম্মানিত ফেরেশতাদের সমতুল্য মর্যাদা পাবে এবং যারা কষ্ট সত্ত্বেও কোরআন সহি শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা ও মেহনত চালিয়ে যায়, তাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। (আবু দাউদ: ১৪৫৮; মুসলিম: ১৮৯৮)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রতিদিন যত বেশি সম্ভব সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতের তাওফিক দান করুন। কোরআন অধ্যয়নের তাওফিক দান করুন। কোরআন অনুযায়ী সমাজ গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।