ধর্ম ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
হিংসা মানুষের অন্তরের একটি নিন্দনীয় ব্যাধি। অন্যের সুখ, সাফল্য ও নিয়ামত দেখে কষ্ট পাওয়া এবং সেগুলো নষ্ট হওয়ার কামনা করা হিংসার লক্ষণ। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং সামাজিক ভ্রাতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম হিংসা থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে শিখিয়েছে।
হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে সুরা ফালাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
আরবি: وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
অর্থ: ‘আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।’ (সুরা ফালাক: ৫)
সুরা ফালাকের এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই নিয়মিত সুরাটি তিলাওয়াত করা এবং এর অর্থ বুঝে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: যেকোনো কঠিন কাজ শুরুর আগে এই ৩ দোয়া পড়ুন
রাসুলুল্লাহ (স.) শিশু হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য একটি দোয়া পড়ে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (স.) বলতেন, ইবরাহিম (আ.)-ও তার দুই সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাক (আ.)-এর জন্য এভাবে আশ্রয় চাইতেন।
আরবি: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীসমূহের মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, প্রত্যেক ক্ষতিকর প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ বুখারি: ৩৩৭১)
দোয়াটি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য পড়া যায়। এতে আল্লাহর কাছে বিভিন্ন ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়।
হিংসা ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় পেতে সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ুন।
আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে সকাল ও সন্ধ্যায় এই তিনটি সুরা তিনবার করে পড়তে বলেছেন। তিনি জানান, এই আমল সব ধরনের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হবে। (আবু দাউদ: ৫০৮২)
আরও পড়ুন: যে দোয়া পড়লে জীবনে শান্তি নেমে আসে
সুরা ফালাক ও সুরা নাসের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তাঁর ওপর এমন আয়াত নাজিল হয়েছে, যেগুলোর মতো আয়াত আগে দেখা যায়নি। তিনি সুরা ফালাক ও সুরা নাসের কথা উল্লেখ করেন। (সহিহ মুসলিম: ৮১৪)
অন্যের হিংসা থেকে সুরক্ষা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের অন্তরকেও হিংসামুক্ত রাখা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (স.) পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ ও হিংসা পোষণ করতে নিষেধ করেছেন এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৬০৬৪; সহিহ মুসলিম: ২৫৫৯)
কেউ হিংসা করছে বলে সন্দেহ হলেই তাকে দোষারোপ করা কিংবা প্রতিটি বিপদকে হিংসার ফল মনে করা ঠিক নয়। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি কুধারণা পোষণ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি তাবিজ-কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে কোরআন-সুন্নাহর দোয়া ও আমল অনুসরণ করতে হবে।
তথ্যসূত্র: সুরা ফালাক: ১-৫; সুরা নিসা: ৫৪; সহিহ বুখারি: ৩৩৭১, ৬০৬৪; সহিহ মুসলিম: ৮১৪, ২৫৫৯; সুনান আবু দাউদ: ৫০৮২