Dhaka Mail Logo

ইসলাম

শিরক থেকে দূরে থাকতে কোরআনের ৫ নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ; একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর একক অধিকার স্বীকার করা। এর বিপরীত হলো শিরক, অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত, উপাসনা বা তাঁর বিশেষ অধিকার ও ক্ষমতায় কাউকে অংশীদার করা। পবিত্র কোরআনে শিরক সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। পাশাপাশি শিরক থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

শিরক কেন এত গুরুতর

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা নিসা: ৪৮)

আয়াতটির অর্থ হলো, কেউ শিরক থেকে তাওবা না করে সেই অবস্থায় মারা গেলে তার জন্য ক্ষমার প্রতিশ্রুতি নেই। তবে জীবিত অবস্থায় আন্তরিকভাবে তাওবা করে শিরক পরিত্যাগ করলে আল্লাহর ক্ষমা লাভের দরজা খোলা রয়েছে।

লোকমান (আ.) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘হে আমার ছেলে, আল্লাহর সঙ্গে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম।’ (সুরা লুকমান: ১৩)

তাই শিরক থেকে বেঁচে থাকা এবং তাওহিদের ওপর অবিচল থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরি।

আরও পড়ুন: লোকমান হাকিম কি নবী ছিলেন? ছেলের প্রতি তাঁর উপদেশ কী?

১. একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করুন

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না।’ (সুরা নিসা: ৩৬)

ইবাদত, সেজদা, মানত ও ইবাদতস্বরূপ কোরবানি আল্লাহর জন্যই করতে হবে। একইভাবে নামাজে আমরা ঘোষণা করি, ‘আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং শুধু আপনারই কাছে সাহায্য চাই।’ (সুরা ফাতিহা: ৫)

এই আয়াতগুলো শেখায়, ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করা যাবে না।

২. দোয়া ও প্রার্থনার ক্ষেত্রে আল্লাহর একক অধিকার স্বীকার করুন

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে ডেকো না।’ (সুরা জ্বিন: ১৮)

আরও বলেন, ‘আল্লাহকে ছাড়া এমন কাউকে ডেকো না, যে তোমার উপকারও করতে পারে না, অপকারও করতে পারে না।’ (সুরা ইউনুস: ১০৬)

দোয়া ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইবাদতস্বরূপ দোয়া ও প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহর কাছেই করতে হবে। তবে জীবিত কোনো মানুষের কাছে তার স্বাভাবিক সামর্থ্যের মধ্যে সাহায্য চাওয়া আর কাউকে ইবাদতস্বরূপ ডাকা এক বিষয় নয়।

কাউকে আল্লাহর মতো অলৌকিকভাবে বিপদ দূর করা, গুনাহ ক্ষমা করা বা প্রয়োজন পূরণের ক্ষমতার অধিকারী মনে করে তার কাছে প্রার্থনা করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: না বুঝে শিরক করলে আল্লাহ শাস্তি দেবেন?

৩. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো, তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা করো।’ (সুরা মায়িদা: ২৩)

মুমিনের অন্তরের প্রকৃত ভরসা থাকবে আল্লাহর ওপর। বিপদ থেকে মুক্তি, রিজিক ও কল্যাণের জন্য তাঁর কাছেই প্রার্থনা করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পরিশ্রম ও বৈধ উপায় অবলম্বন করাও ইসলামে অনুমোদিত।

তবে কোনো বস্তু, তাবিজ, গ্রহ-নক্ষত্র বা কুসংস্কারকে আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে স্বাধীনভাবে ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাবিজের মতো বিষয়ে নির্দিষ্ট শরয়ি বিধান নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দলিল ও বিশ্বাসের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

৪. আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে মনে করবেন না এবং নিয়ত বিশুদ্ধ রাখুন

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা জেনেশুনে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।’ (সুরা বাকারা: ২২)

শিরক শুধু প্রকাশ্য উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইবাদতে লোকদেখানো মনোভাব বা রিয়াও ভয়াবহ বিষয়। হাদিসে রিয়াকে ছোট শিরক হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়েছে। তাই নামাজ, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াতসহ সব নেক আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা কাহফ: ১১০)

আরও পড়ুন: নামাজের মধ্যেও মানুষ শিরক করে যেভাবে

৫. তাওহিদের জ্ঞান অর্জন করুন

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।’ (সুরা মুহাম্মদ: ১৯)

তাওহিদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করলে শিরকের বিভিন্ন ধরন ও তা থেকে বেঁচে থাকার উপায় বোঝা সহজ হয়। এ জন্য কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করা এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছ থেকে দ্বীনের জ্ঞান নেওয়া প্রয়োজন।

একইসঙ্গে অন্যকে শিরকের বিষয়ে সতর্ক করার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা, উত্তম আচরণ ও যথাযথ জ্ঞানের পরিচয় দিতে হবে। কারও কথা বা কাজের পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে তাকে মুশরিক ঘোষণা করা উচিত নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সতর্কতা জরুরি।

শিরক থেকে বাঁচতে সচেতন হোন

শিরক থেকে বেঁচে থাকার জন্য একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে হবে, দোয়া ও প্রার্থনায় তাঁর একক অধিকার স্বীকার করতে হবে, তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে, নিয়ত বিশুদ্ধ রাখতে হবে এবং তাওহিদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত, তিনি যেন আমাদের শিরকের প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরন থেকে রক্ষা করেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাওহিদের ওপর অবিচল রাখেন।

তথ্যসূত্র: সুরা নিসা: ৩৬, ৪৮; সুরা লুকমান: ১৩; সুরা ফাতিহা: ৫; সুরা জ্বিন: ১৮; সুরা ইউনুস: ১০৬; সুরা মায়িদা: ২৩; সুরা বাকারা: ২২; সুরা কাহফ: ১১০; সুরা মুহাম্মদ: ১৯