Dhaka Mail Logo

ইসলাম

মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় এমন ৭ আমল

ধর্ম ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

আমরা অনেক সময় বড় আমলের অপেক্ষায় থাকি। দীর্ঘ সময়ের ইবাদত, বেশি দান কিংবা কঠিন কোনো নেক কাজকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। অথচ ইসলামে এমন অনেক ছোট আমল আছে, যা মানুষের চোখে সামান্য হলেও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও।’ (সহিহ মুসলিম)

এমন ছোট ছোট কিছু আমল জীবনে নিয়মিত করা যায়।

১. হাসিমুখে কথা বলা

কারও সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা খুব সাধারণ বিষয় মনে হতে পারে। অথচ এটিও সদকা হিসেবে গণ্য হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাসিমুখ তোমার জন্য সদকা।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৬)

একটু হাসি ও আন্তরিকতা কারও মন ভালো করে দিতে পারে। এর জন্য অর্থ বা দীর্ঘ সময়েরও প্রয়োজন হয় না।

২. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া

রাস্তায় পড়ে থাকা কাঁটা, পাথর বা এমন কোনো বস্তু সরিয়ে দেওয়া, যাতে মানুষের কষ্ট হতে পারে, এটিও নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ঈমানের সত্তরেরও বেশি শাখা রয়েছে। এর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।’ (সহিহ মুসলিম: ৩৫)

মানুষ হয়তো দেখলই না কে বস্তুটি সরিয়ে দিল। কিন্তু আল্লাহর কাছে সেই ছোট কাজটিরও মর্যাদা রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর ফজিলত

৩. তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো

এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, আল্লাহ তার এই কাজ কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ বুখারি: ২৩৬৩)

এ ঘটনা শেখায়, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখানোও বড় নেক আমল। একটি প্রাণীকে একটু পানি দেওয়ার মতো সাধারণ কাজও আল্লাহর রহমত পাওয়ার কারণ হয়।

৪. কাউকে কষ্ট না দেওয়া

ইবাদত শুধু নামাজ, রোজা ও নফল আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের হাত ও জবান থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুসলিম সে, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।’ (সহিহ বুখারি: ১০)

অনেক সময় কোনো অন্যায় করা থেকে নিজেকে বিরত রাখাও বড় নেক আমল হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যখন তা আল্লাহর ভয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: অসতর্কতায় কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে তার জন্য এই দোয়া করুন

৫. পিতা-মাতার ছোট ছোট প্রয়োজন পূরণ করা

পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাঁদের জন্য দোয়া করা, নরমভাবে কথা বলা, প্রয়োজনের সময় পানি এগিয়ে দেওয়া বা ছোট কোনো কাজে সহযোগিতা করা- এসবও নেক আমল।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩)

বয়স বাড়ার সঙ্গে পিতা-মাতার ছোট ছোট প্রয়োজনও অনেক সময় তাঁদের কাছে বড় হয়ে ওঠে। তাই সামান্য মনে হওয়া এসব সেবাকেও অবহেলা করা উচিত নয়।

৬. কারও জন্য গোপনে দোয়া করা

কেউ জানল না, প্রশংসাও করল না, তবু অন্য মুসলিমের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা উত্তম আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘তোমার জন্যও অনুরূপ।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)

প্রিয়জন, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা বিপদগ্রস্ত কারও জন্য নীরবে দোয়া করা এমন আমল, যার প্রতিদান মানুষের চোখে দেখা না গেলেও আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত থাকে।

৭. গোপনে দান করা

দান করার পর মানুষের প্রশংসা পাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই এমনভাবে কাউকে সাহায্য করা, যাতে নিজের পরিচয় প্রকাশ না পায়, ইখলাসের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

রাসুলুল্লাহ (স.) সাত শ্রেণির এমন মানুষের কথা বলেছেন, যারা কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়া লাভ করবে। তাঁদের একজন হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি এত গোপনে দান করেন যে তাঁর বাম হাতও জানে না তাঁর ডান হাত কী দান করেছে। (সহিহ বুখারি: ৬৬০; সহিহ মুসলিম: ১০৩১)

দান অল্প হোক বা বেশি, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোপনে করা হলে তা একজন মুমিনের জন্য সওয়াবের আমল হতে পারে।

ছোট আমলকে ছোট মনে নয়

ইসলামের শিক্ষা হলো, কোনো নেক আমলকে তুচ্ছ মনে না করা। একটি হাসি, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া, তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি দেওয়া, কাউকে কষ্ট না দেওয়া কিংবা কারও জন্য গোপনে দোয়া করা- এসব কাজ মানুষের চোখে খুবই সাধারণ হতে পারে।

কিন্তু আল্লাহ চাইলে এসবের কোনো একটি আমলই বান্দার নাজাতের কারণ হতে পারে। তাই বড় আমলের পাশাপাশি ছোট নেক কাজগুলোও নিয়মিত করা উচিত। আমরা জানি না, আমাদের কোন ছোট আমলটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে যাবে।