কোনো নেক আমলকে ছোট মনে করতে নেই। আল্লাহ তাআলা কোন আমলের কারণে সন্তুষ্ট হয়ে যান, বলা যায় না। হাদিসে এমন এক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে এক লোক রাস্তা থেকে কাঁটাযুক্ত গাছের ডাল সরিয়ে দেয়ার কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, এক ব্যক্তি পথ চলাকালে রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাআলা তার এই কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন। (সহিহ বুখারি: ৬৫২; সহিহ মুসলিম: ৪৮৩৪)
রাস্তাঘাঁটের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সেই রাস্তার নিরাপত্তা বিধানে যারই ভূমিকা থাকুক, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন। হাদিসের শিক্ষা হলো- রাস্তাঘাঁট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও চলাচলের উপযোগী করা বড়ই ফজিলতপূর্ণ আমল। এজন্য হাদিসে বর্ণিত লোকটির গল্প শুনিয়ে প্রিয়নবীজি তাঁর প্রিয় সাহাবিদের পথের কষ্ট দূর করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
রাস্তার কষ্টদায়ক বস্তু দ্বারা উদ্দেশ্য-পাথর, মাটির টুকরো, কাঁটাসহ কষ্টদায়ক সবকিছু। (শরহু মুসলিম, নববি: ২/৬)
আরও পড়ুন: সারাদিন ৬ জিকিরের অবিশ্বাস্য ফজিলত
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া ঈমানেরও একটি শাখা। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন-‘ঈমানের সত্তরোর্ধ্ব কিংবা ষাটোর্ধ্ব শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠতম শাখা হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা আর সবচেয়ে সাধারণ শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।’ (মুসলিম: ৩৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২৫৮৪৮; মুসনাদে আহমদ: ৮৯২৬)
আরও পড়ুন: ঈমানের শাখা-প্রশাখাগুলো কী
অতএব, ঈমানের নূন্যতম দাবি হলো- চলার পথে সাধ্যানুযায়ী কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। এটি নাজাতেরও কারণ হয়ে যেতে পারে। যার প্রমাণ উপরে বর্ণিত হাদিস। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবীজির হাদিস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।




