ধর্ম ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
কেউ কষ্ট দিলে বা রাগের কারণ হলে অনেক সময় মুখে কিছু না বলেও মনে মনে তাকে গালি দেওয়া হয়। বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে রাগ ও কটু কথা চলতে থাকে। তখন প্রশ্ন আসে, মুখে না বললে মনে মনে গালি দেওয়াও কি গুনাহ?
এ ক্ষেত্রে ইসলামে অনিচ্ছায় মনে আসা চিন্তা এবং ইচ্ছা করে কোনো চিন্তাকে পোষণ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
মানুষের মনে সব চিন্তা নিজের ইচ্ছায় আসে না। রাগ, কষ্ট বা বিরক্তির সময় কারও সম্পর্কে হঠাৎ খারাপ কথা মনে আসতে পারে। এমন অনিচ্ছাকৃত চিন্তার জন্য মানুষ গুনাহগার হয় না, যতক্ষণ না তা মুখে প্রকাশ করে বা কাজে পরিণত করে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ আমার উম্মতের মনে জাগা চিন্তাগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে প্রকাশ করে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬৬৪; সহিহ মুসলিম: ১২৭)
তাই অনিচ্ছায় মনে কোনো কটু কথা এলে সেটি নিয়ে অযথা অপরাধবোধে ভোগার প্রয়োজন নেই।
তবে কারও প্রতি রাগ বা কষ্টকে ইচ্ছা করে লালন করা ভিন্ন বিষয়। একজন মুমিনের উচিত নিজের অন্তরকে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও অপমানের প্রবণতা থেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা।
আবার কারও আচরণ অন্যায় হলে সেই আচরণকে ভুল বলা এবং ব্যক্তিকে অপমান করা এক নয়। কাউকে ‘অমানুষ’, ‘বেয়াদব’ বা ‘অসভ্য’ বলে হেয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ‘মুনাফিক’ বা ‘ফাসিক’-এর মতো ধর্মীয় পরিভাষাও গালি বা অপমানের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন: হিংসা-বিদ্বেষ না থাকা জান্নাতিদের গুণ
কেউ অপমান করলেও পাল্টা গালি দেওয়া উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমাকে তোমার কোনো বিষয় নিয়ে গালি দেয়, তুমি তাকে তার জানা কোনো বিষয় ধরে গালি দিয়ো না। এতে তোমার জন্য সওয়াব হবে এবং তার ওপর গুনাহের বোঝা থাকবে।’ (সহিহুল জামে: ৫৯৪)
তবে অন্যায় হলে ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, দুই ব্যক্তি পরস্পরকে গালি দিলে শুরু করা ব্যক্তির ওপর গুনাহ থাকে, যতক্ষণ না অপর ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করে। (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৭)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রকৃত বীর সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়। সে-ই আসল বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১৪; সহিহ মুসলিম: ২৬০৯)
তাই রাগের সময় সঙ্গে সঙ্গে জবাব না দিয়ে নীরব থাকা, প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি থেকে সরে যাওয়া এবং পরে শান্তভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা ভালো।
অন্যায় বা অপমানের শিকার হলে পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ন্যায়সঙ্গত কোনো মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। ক্ষমা করে দেওয়া উত্তম, তবে অন্যায় সহ্য করাই যে একমাত্র পথ-এমন নয়।
মূল কথা, মনে হঠাৎ কাউকে গালি দেওয়ার মতো চিন্তা চলে আসা আর ইচ্ছা করে কাউকে গালি দেওয়া এক বিষয় নয়। অনিচ্ছাকৃত চিন্তার জন্য গুনাহ নেই। তবে সেই চিন্তাকে ইচ্ছা করে লালন করা, মুখে গালি দেওয়া বা তার ভিত্তিতে অন্যায় আচরণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
রাগের সময় নিজের জবান ও আচরণ সংযত রাখা এবং অন্যায় হলে ন্যায়সঙ্গত পথে প্রতিকার চাওয়াই ইসলামি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: সুরা বাকারা ২৮৪, ২৮৬; সহিহ বুখারি: ৬১১৪, ৬৬৬৪; সহিহ মুসলিম: ১২৭, ২৫৮৭, ২৬০৯; সহিহুল জামে: ৫৯৪