Dhaka Mail Logo

ইসলাম

বেশি চুপ থাকা মানুষকে নিয়ে ইসলাম কী বলে

ধর্ম ডেস্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

কেউ বেশি কথা বলেন, কেউ আবার প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা কথা বলেন না। কম কথা বলা মানুষকে অনেক সময় রহস্যময় বা অহংকারী মনে করা হয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বেশি চুপ থাকা মানুষকে কীভাবে দেখা হয়?

ইসলাম অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করেছে। তবে সব সময় চুপ থাকাই ভালো-এমন নয়। প্রয়োজনের সময় সত্য ও ভালো কথা বলাও একজন মুমিনের দায়িত্ব।

বেশি কথা নয়, ভালো কথা

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১৮; সহিহ মুসলিম: ৪৭)

অর্থাৎ কথা বলার পরিমাণের চেয়ে কথার ধরন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কথা যদি ভালো ও উপকারী হয়, তা বলা উচিত। আর কথা যদি গুনাহ, ঝগড়া বা অনর্থকতার কারণ হয়, তখন চুপ থাকাই নিরাপদ।

আরও পড়ুন: অন্যায়ের প্রতিবাদে নবীজির শেখানো শিষ্টাচার

নীরবতা গুনাহ থেকে বাঁচায়

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে নীরব থাকলো, সে নাজাত পেলো।’ (জামে তিরমিজি: ২৫০১)

মানুষের অনেক ভুল কথার মাধ্যমেই হয়। গিবত, মিথ্যা, অপবাদ, কটু কথা কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে বাঁচার একটি উপায় হলো জবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে একজন পর্যবেক্ষক প্রস্তুত থাকে।’ (সুরা কাফ: ১৮)

তাই কম কথা বলা যদি একজন মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, তাহলে তা প্রশংসনীয় গুণ।

নবীজি (স.)-ও ছিলেন সংযত

জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন এবং খুব কম হাসতেন। (মুসনাদে আহমদ: ৬৩০৮)

তবে তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন না। প্রয়োজনীয়, সত্য ও কল্যাণকর কথা বলতেন। তাই ইসলামের শিক্ষা হলো- বেশি কথা বলাও নয়, আবার অকারণে নীরব থাকাও নয়।

আরও পড়ুন: অনুমান করে কথা বলা: ইসলাম কী বলে

অন্যায় দেখেও চুপ থাকা নয়

চুপ থাকা সব পরিস্থিতিতে প্রশংসনীয় নয়। অন্যায়, জুলুম বা অধিকার নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কথা বলা দায়িত্বের অংশ হতে পারে।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১১০)

তাই অন্যায় দেখেও শুধু ‘আমি চুপ থাকব’-এমন নীতি ইসলাম শেখায় না। পরিস্থিতি বুঝে সত্য ও কল্যাণের কথা বলাও মুমিনের দায়িত্ব।

বেশি চুপ থাকা মানুষকে কীভাবে দেখব?

কেউ কম কথা বললেই তাকে অহংকারী, দুর্বল বা অস্বাভাবিক মনে করা ঠিক নয়। সে হয়তো নিজের জবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। আবার বেশি চুপ থাকলেই কেউ ভালো মানুষ-এমন সিদ্ধান্তেও যাওয়া উচিত নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে মূল বিষয় হলো- কখন কথা বলতে হবে আর কখন চুপ থাকতে হবে। যেখানে ভালো কথা বলা দরকার, সেখানে ভালো কথা বলা এবং যেখানে নীরব থাকাই নিরাপদ, সেখানে চুপ থাকা- এটাই একজন মুমিনের উত্তম গুণ।

তথ্যসূত্র: সুরা কাফ: ১৮; সুরা আলে ইমরান: ১১০; সহিহ বুখারি: ৬০১৮; সহিহ মুসলিম: ৪৭; জামে তিরমিজি: ২৫০১; মুসনাদে আহমাদ: ৬৩০৮