ধর্ম ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অতীত কতটা জানতে চাইবেন, আর কোন বিষয়গুলো না জানাই ভালো? বিশেষ করে বিয়ের আগের কোনো ভুল বা সম্পর্কের বিষয় কি দাম্পত্য জীবনে বারবার আলোচনায় আনা উচিত?
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো- বিয়ের আগের ব্যক্তিগত ভুল বা সম্পর্কের খুঁটিনাটি অনুসন্ধান করা কিংবা পরে তা নিয়ে খোঁটা দেওয়া ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে অতীতের কোনো বিষয় যদি বর্তমান দাম্পত্য জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
মানুষ ভুল করতে পারে এবং তাওবার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘ বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ; আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার: ৫৩)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম।’ (জামে তিরমিজি: ২৪৯৯)
তাই কেউ অতীতের ভুল থেকে আন্তরিকভাবে তাওবা করে থাকলে সেই ভুলকে তার স্থায়ী পরিচয় বানিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ, নবীজি (স.)-এর কঠিন সতর্কতা
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)
এই শিক্ষার আলোকে দাম্পত্য জীবনে সাধারণভাবে এড়িয়ে চলা ভালো-
এ ধরনের আলোচনা অনেক সময় সন্দেহ, হিংসা ও অবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বর্তমান দাম্পত্য সম্পর্কেও অশান্তি তৈরি হতে পারে।
অতীতের ব্যক্তিগত গুনাহ গোপন রাখা এবং দাম্পত্য জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এক বিষয় নয়।
আরও পড়ুন: বিয়ের রাতে নবী (স.) কী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন
কোনো পুরোনো বিষয় যদি বর্তমানে সঙ্গীর অধিকার, নিরাপত্তা বা দাম্পত্য জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাহলে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করে প্রতারণা করা ঠিক নয়। এমন ক্ষেত্রে কী তথ্য জানানো প্রয়োজন, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিয়ে নির্ধারণ করা উচিত।
আর কেউ অতীতে অন্যের অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া ও প্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়াও তাওবার অংশ।
কেউ বদলে গেলে তার অতীত নিয়ে বারবার খোঁটা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ক্ষমা করা মানেই আগের মতো সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ আস্থা ফিরে আসা নয়। বিশেষ করে কারও আচরণে আগে ক্ষতি হয়ে থাকলে ধারাবাহিক ভালো আচরণ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠিত হতে পারে।
মূল কথা, ইসলাম মানুষের পুরোনো ভুল নিয়ে অযথা খোঁচাখুঁচি বা খোঁটা দিতে উৎসাহিত করে না। তবে এমন কোনো বিষয়, যা বর্তমান দাম্পত্য অধিকার, দায়িত্ব বা নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলে, তা গোপন করাও ঠিক নয়। তাই ইসলামের শিক্ষা হলো- অতীতের অপ্রয়োজনীয় অনুসন্ধান নয়, আবার প্রয়োজনীয় বিষয়ে অসততাও নয়।