Dhaka Mail Logo

ইসলাম

দোয়ার সময় আল্লাহর কোন নাম ধরে কী চাইবেন

ধর্ম ডেস্ক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

দোয়া করার সময় আমরা সাধারণত নিজের প্রয়োজনের কথাই আল্লাহর কাছে তুলে ধরি। তবে কোরআনে আল্লাহ তাঁর সুন্দর নাম ধরে তাঁকে ডাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কী চাইছি, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আল্লাহর কোনো গুণবাচক নাম স্মরণ করে দোয়া করা যেতে পারে।

আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাকে সেসব নামেই ডাকো।’ (সুরা আরাফ: ১৮০)

আল্লাহর সুন্দর নামগুলোকে ‘আসমাউল হুসনা’ বলা হয়। এসব নামের মাধ্যমে আল্লাহর বিভিন্ন গুণ ও মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। দোয়ার সময় তাঁর নামের অর্থ ও তাৎপর্য মনে রেখে প্রার্থনা করলে বান্দার অন্তরে আল্লাহর প্রতি আশা, ভরসা ও বিনয় আরও গভীর হতে পারে।

রিজিক চাইলে ‘আর-রাজ্জাক’

রিজিকের প্রয়োজন হলে আল্লাহর ‘আর-রাজ্জাক’ নামটি স্মরণ করে দোয়া করা যেতে পারে। এর অর্থ- যিনি রিজিক দান করেন।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহই রিজিকদাতা, শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী।’ (সুরা জারিয়াত: ৫৮)

তাই হালাল ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর ‘রিজিকদাতা’ গুণ স্মরণ করে প্রার্থনা করা যায়।

আরও পড়ুন: রিজিকে বরকত লাভের ৯ আমল: কোরআন ও সহিহ হাদিসে যা বলা হয়েছে

ক্ষমা চাইলে ‘আল-গাফুর’

গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে আল্লাহর ‘আল-গাফুর’ নামটি স্মরণ করা যেতে পারে। এর অর্থ- অতীব ক্ষমাশীল।

আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তারপর সৎপথে অবিচল থাকে।’ (সুরা ত্বহা: ৮২)

তাই গুনাহের পর হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইস্তেগফার করা উচিত এবং আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখা উচিত।

বিপদে পড়লে ‘আল-লতিফ’

কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সূক্ষ্ম অনুগ্রহ ও দয়া কামনা করে তাঁর ‘আল-লতিফ’ নামটি স্মরণ করা যেতে পারে। এ নামের অর্থ- অতি সূক্ষ্ম অনুগ্রহকারী, পরম কোমল ও সদয়।

বিপদের সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি তাঁর অনুগ্রহ ও প্রজ্ঞার ওপর ভরসা করা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দোয়া কবুলের প্রত্যাশায় ‘আল-মুজিব’

আল্লাহর ‘আল-মুজিব’ নামের অর্থ- যিনি ডাকে সাড়া দেন।

সুরা হুদে হজরত সালেহ (আ.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক নিকটবর্তী, দোয়া কবুলকারী।’ (সুরা হুদ: ৬১)

তাই দোয়ার সময় আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরে তাঁর সাহায্য ও সাড়ার আশা করা যায়।

আরও পড়ুন: আল্লাহর যেসব গুণ উচ্চারণ করে দোয়া করবেন

আল্লাহর ভালোবাসা চাইলে ‘আল-ওয়াদুদ’

আল্লাহর ‘আল-ওয়াদুদ’ নামের অর্থ- পরম ভালোবাসাময়।

আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি ক্ষমাশীল, ভালোবাসাময়।’ (সুরা বুরুজ: ১৪)

বান্দা আল্লাহর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি ও রহমত কামনা করে তাঁর এই নাম স্মরণ করতে পারে।

তাওবা করতে চাইলে ‘আত-তাওয়াব’

আল্লাহর অন্যতম নাম ‘আত-তাওয়াব’- বারবার তাওবা কবুলকারী।

আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আদম তাঁর প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন। ফলে তিনি তাঁর তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা: ৩৭)

তাই বারবার ভুল হয়ে গেলেও হতাশ না হয়ে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।

আরও পড়ুন: তাওবা ও ইস্তেগফারের পার্থক্য কী? আস্তাগফিরুল্লাহ বললে তাওবা হবে?

কঠিন সময়ে সাহায্য চাইলে ‘আল-হাইয়্যু, আল-কাইয়্যুম’

আল্লাহর ‘আল-হাইয়্যু’ অর্থ চিরঞ্জীব এবং ‘আল-কাইয়্যুম’ অর্থ- যিনি নিজে প্রতিষ্ঠিত এবং সবকিছুকে ধারণ ও পরিচালনা করেন।

আয়াতুল কুরসিতে এসেছে, ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা বিদ্যমান।’ (সুরা বাকারা: ২৫৫)

এই নাম দুটি স্মরণ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য, শক্তি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা যেতে পারে।

ইসমে আজমের মাধ্যমে দোয়া

আল্লাহর নামগুলোর মধ্যে ‘ইসমে আজম’ নিয়ে হাদিসে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। কোন নামটি ইসমে আজম- এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত পাওয়া যায়।

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তির দোয়ায় আল্লাহর প্রশংসা এবং ‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম’ উচ্চারণ শুনে তা আল্লাহর ইসমে আজমের মাধ্যমে করা দোয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (নাসাঈ: ১৩০০; জামে তিরমিজি: ৩৫৪৪)

আরেক বর্ণনায় ‘আল-আহাদুস সামাদ’ শব্দসহ দোয়ার কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (স.) এটিকেও আল্লাহর ইসমে আজমের মাধ্যমে করা দোয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৩)

এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর মহান নাম ও গুণাবলি স্মরণ করে দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

আল্লাহর সুন্দর নাম ধরে দোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে। যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ বুখারি: ২৭৩৬, ৭৩৯২; সহিহ মুসলিম: ২৬৭৭)

আল্লাহর সুন্দর নাম ধরে তাঁকে ডাকা কোরআনের নির্দেশনা। তবে কোনো একটি নাম নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়লেই নির্দিষ্ট ফল পাওয়া যাবে-এমন দাবির ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

মূল কথা হলো- দোয়ার সময় শুধু কী চাইছি, সেটিই নয়, কার কাছে চাইছি সেটিও মনে রাখা উচিত। আল্লাহর সুন্দর নাম ও গুণাবলি স্মরণ করে আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরতে হবে।

তথ্যসূত্র: সুরা আরাফ: ১৮০; জারিয়াত: ৫৮; ত্বহা: ৮২; হুদ: ৬১; বুরুজ: ১৪; বাকারা: ৩৭, ২৫৫; নাসাঈ: ১৩০০; তিরমিজি: ৩৫৪৪; আবু দাউদ: ১৪৯৩; সহিহ বুখারি: ২৭৩৬, ৭৩৯২; সহিহ মুসলিম: ২৬৭৭