ধর্ম ডেস্ক
২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
মানুষের ব্যক্তিগত কথা গোপন রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তবে সবসময় ইচ্ছা করে কারও কথা শোনা না হলেও কখনো পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, কোনো বৈঠকে বসে কিংবা একই জায়গায় থাকার কারণে অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে চলে আসতে পারে। এমন হলে কী করবেন?
কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।
কেউ গোপনে কথা বলছে বুঝতে পারলে কান পেতে শোনা উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজরাত: ১২)
হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো এক দলের কথা কান পেতে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে, কেয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭০৪২)
তাই অন্যের ব্যক্তিগত আলাপে ইচ্ছা করে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
হঠাৎ কোনো কথা কানে চলে এলে সেটি নিয়ে বিব্রত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এরপর কী বলা হচ্ছে, তা জানার জন্য মনোযোগ দিয়ে শোনা ঠিক নয়।
সম্ভব হলে সেখান থেকে সরে যান। তা সম্ভব না হলে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে রাখুন।
আরও পড়ুন: যে ৬ বিষয় মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখা উত্তম
কেউ এমনভাবে কথা বললে, যাতে বোঝা যায় তিনি বিষয়টি গোপন রাখতে চান, তা অন্যের কাছে বলা উচিত নয়। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং মুখ ঘুরায় (এদিক-সেদিক তাকায়), তখন তা আমানত।’ (সুনান আবু দাউদ: ৪৮৬৮)
অর্থাৎ ব্যক্তিগত কথা শুনে সেটিকে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয় হিসেবে নেওয়া যাবে না।
কথার সামান্য অংশ শুনে অনেক সময় পুরো ঘটনা জানার আগ্রহ তৈরি হয়। কে কী বলল, কেন বলল, এরপর কী হয়েছে এসব জানতে গিয়ে অন্যের কাছে প্রশ্ন করা শুরু হয়।
এ ধরনের কৌতূহল থেকে দূরে থাকাই ভালো। আল্লাহ তাআলা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন।
কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা পারিবারিক কোনো বিষয় জেনে গেলে পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে তাকে খোঁটা দেওয়া, অপমান করা বা অন্যের সামনে প্রকাশ করা উচিত নয়।
নবীজি (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)
মানুষের ভুল বা দুর্বলতা জেনে গেলে তা ঢেকে রাখাও উত্তম চরিত্রের অংশ।
আরও পড়ুন: এই ৫ বিষয়ে কখনো ঠাট্টা করবেন না
গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। তবে কোনো কথার মধ্যে যদি কারও জীবন, নিরাপত্তা বা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তখন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখতে হবে।
যেমন কারও ওপর হামলার পরিকল্পনা বা গুরুতর অপরাধের প্রস্তুতির কথা জানা গেলে তা চুপ করে রাখা ঠিক হবে না। এমন ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন হতে পারে।
মোটকথা, অন্যের গোপন কথা কানে আসা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে। কিন্তু এরপর আমরা কী করব, সেটি আমাদের হাতে। ইচ্ছা করে শুনব না। শুনে ফেললে আর জানার চেষ্টা করব না। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বলব না। আর সেই তথ্য দিয়ে কাউকে ছোটও করব না।
অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা মানে শুধু একটি কথা গোপন রাখা নয়, একজন মানুষের সম্মান রক্ষা করা।
তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও সুনান আবু দাউদ