Dhaka Mail Logo

ইসলাম

আজানের সময় কানে আঙুল দেওয়া হয় কেন?

ধর্ম ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে দুই কানে আঙুল রাখতে দেখা যায়। পরিচিত এই আমলের পেছনে কী কারণ রয়েছে? এটি কি শুধু প্রচলিত একটি রীতি, নাকি নবীজির সুন্নাহই এর ভিত্তি?

হাদিসে এ বিষয়ে সরাসরি বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত আবু জুহাইফা (রা.) বলেন, তিনি হজরত বেলাল (রা.)-কে দুই কানে আঙুল দিয়ে আজান দিতে এবং আজানের সময় ডানে-বামে মুখ ফেরাতে দেখেছেন। (জামে তিরমিজি: ১৯৭)

কানে আঙুল রাখার হেকমত কী?

কানে আঙুল রাখার হেকমত সম্পর্কেও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (স.) বেলাল (রা.)-কে আজানের সময় কানে আঙুল রাখতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এতে তোমার আওয়াজ আরও উঁচু হবে।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ৭১০)

তবে এই হাদিসটি মানের দিক থেকে দুর্বল হিসেবে গ্রেড করা হয়েছে। তাই এটিকে শক্তিশালী সহিহ হাদিসের অকাট্য বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন না করে কানে আঙুল রাখার সম্ভাব্য হেকমত হিসেবে উল্লেখ করাই সতর্কতাপূর্ণ।

আরও পড়ুন: মিটিং-সমাবেশ চলাকালে আজান হলে করণীয়

আজান মূলত মানুষকে নামাজের সময় সম্পর্কে জানানোর আহ্বান। তাই মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যত দূর পৌঁছানো যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) এক ব্যক্তিকে উঁচু স্বরে আজান দিতে বলেন এবং জানান, মানুষের পাশাপাশি জ্বিন ও অন্যান্য সৃষ্টিজীব যতদূর পর্যন্ত মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর শুনবে, কেয়ামতের দিন তারা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। (সহিহ বুখারি: ৬০৯)

ডানে-বামে মুখ ফেরানোর আমল

আজানের সময় ডানে-বামে মুখ ফেরানোর বিষয়টিও হাদিসে এসেছে। হজরত আবু জুহাইফা (রা.)-এর বর্ণনায়, বেলাল (রা.) আজান দেওয়ার সময় ডানে-বামে মুখ ফেরাতেন। অন্য বর্ণনায় ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলার সময় ডান দিকে এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার সময় বাম দিকে মুখ ফেরানোর কথা এসেছে। (সুনান তিরমিজি: ১৯৭; ইবনে মাজাহ: ৭১১)

আরও পড়ুন: টানা ১২ বছর আজান দিলে কী হয়?

মাইকের যুগেও কেন কানে আঙুল রাখা হয়?

বর্তমানে মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকারের কারণে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে আগের মতো শুধু শব্দকে দূরে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। তবু অনেক মুয়াজ্জিন কানে আঙুল রেখে আজান দেন। এর অন্যতম কারণ, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ। ব্যবহারিক হেকমত এক বিষয়, আর সুন্নাহ হিসেবে আমল করা আরেক বিষয়।

কানে আঙুল রাখা আজানের শুদ্ধতার শর্ত নয়। কোনো মুয়াজ্জিন এভাবে আজান না দিলেও আজান শুদ্ধ হবে। তবে হজরত বিলাল (রা.)-এর আমল হিসেবে এবং কণ্ঠস্বর উঁচু করার বিষয়টিও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাই মাইকের যুগেও অনেক মুয়াজ্জিন সুন্নাহ অনুসরণে এ আমলটি পালন করেন।

সূত্র: জামে তিরমিজি: ১৯৭; সুনান ইবনে মাজাহ: ৭১০; সহিহ বুখারি: ৬০৯, সুনান তিরমিজি: ইবনে মাজাহ: ৭১১