ধর্ম ডেস্ক
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
দৈনন্দিন অনেক কাজই আমরা সাধারণ ও তুচ্ছ মনে করি। অথচ সঠিক নিয়ত থাকলে এসব কাজও নেক আমলে পরিণত হতে পারে। মানুষের উপকার করা, গাছ লাগানো, সালাম দেওয়া, পরিবারের জন্য খরচ করা কিংবা হাসিমুখে কথা বলার মতো কাজেও সওয়াব রয়েছে। অনেক সময় এসব কাজের সওয়াবের বিষয়টি আমাদের খেয়ালই থাকে না।
কারও প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসা কিংবা বিপদে পাশে দাঁড়ানো গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)
তাই মানুষের কষ্ট লাঘবে সামান্য সহযোগিতাকেও ছোট করে দেখা উচিত নয়।
অপরিচিত কাউকে পথ চিনিয়ে দেওয়া, কাউকে বিপদ থেকে সতর্ক করা কিংবা অন্ধ ব্যক্তিকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করাও ভালো কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রতিটি ভালো কাজই সদকা।’ (সহিহ বুখারি: ৬০২১)
মানুষের ছোট প্রয়োজনেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাই সওয়াবের কাজ।
গাছ লাগানো বা ফসল ফলানোও সদকার কাজ। মানুষ কিংবা কোনো প্রাণী সেই গাছ বা ফসল থেকে উপকৃত হলে এর সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম গাছ লাগালে কিংবা ফসল ফলালে, তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা প্রাণী খেলে সেটি তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৫২)
একটি গাছের ফল বা ছায়া থেকেও মানুষ ও প্রাণী উপকৃত হতে পারে। এর সওয়াবও আমলনামায় যুক্ত হয়।
আরও পড়ুন: বৃক্ষরোপণের পুরস্কার সম্পর্কে হাদিসে যা আছে
পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয় করাও সওয়াবের কারণ হতে পারে। শর্ত হলো, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের নিয়ত থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান সওয়াবের আশায় পরিবারের জন্য খরচ করে, তখন তার জন্য সদকা করার সমতুল্য সওয়াব নির্ধারণ করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০০২)
তাই পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর সাধারণ ব্যয়ও একজন মুমিনের জন্য নেক আমলে পরিণত হয়।
হালাল জীবিকা অর্জনের চেষ্টা একজন মুমিনের নেক আমল। নিজের প্রয়োজন ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের নিয়তে চাকরি, ব্যবসা বা অন্যকোনো বৈধ পেশায় পরিশ্রম করলে তাতেও সওয়াব পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য যা ব্যয় করে, তা তার জন্য সদকা।’ (সহিহ মুসলিম: ১০০২)
তাই হালাল পথে উপার্জন করা এবং পরিবারের প্রয়োজন পূরণে ব্যয় করাও সওয়াবের কাজ হতে পারে।
প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় তাকে সহযোগিতা করাও নেক আমল। অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া কিংবা অভাবের সময় পাশে দাঁড়ানোতেও সওয়াব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সে মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী তার পাশে ক্ষুধার্ত থাকে।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ: ১১২) তাই প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ এবং সওয়াবের কাজ।
আরও পড়ুন: প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া মুমিনের অনন্য গুণ
সালাম শুধু অভিবাদন নয়। এটি শান্তি ও কল্যাণের দোয়া। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার করো।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)
পরিচিত-অপরিচিত মুসলিমকে সালাম দিলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব বাড়ে। এর মাধ্যমে সওয়াবও অর্জিত হয়।
হাসিমুখে কথা বলাকে আমরা সাধারণ সৌজন্য মনে করি। অথচ এটিও সদকার অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের মুখে তোমার হাসি তোমার জন্য সদকা।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৬)
একটি আন্তরিক হাসি কিংবা সুন্দর আচরণও অন্যের মনে আনন্দ দিতে পারে।
কাউকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া, হতাশ মানুষকে সাহস দেওয়া কিংবা কল্যাণকর কোনো কথা বলাও নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ভালো কথা সদকা।’ (সহিহ বুখারি: ২৯৮৯)
তাই কষ্টদায়ক ও অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলা উচিত। মুখ থেকে যেন কল্যাণকর কথাই বের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
রাস্তা থেকে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো বস্তু সরিয়ে দেওয়াকেও ছোট কাজ মনে করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ঈমানের সত্তরের বেশি শাখা রয়েছে। এর সর্বোচ্চ শাখা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।’ (সহিহ মুসলিম: ৩৫)
অন্যের চলাচলের পথ নিরাপদ করে দেওয়ার মতো ছোট কাজেও নেকি রয়েছে।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সবসময় বড় ও কঠিন আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তরিক নিয়ত ও সচেতনতার সঙ্গে করা ছোট কাজও একজন মুমিনের আমলনামায় মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিনের জীবনকে নেক আমলের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এভাবেই সাধারণ জীবনও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখেরাতের সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, জামে তিরমিজি ও আল-আদাবুল মুফরাদ