গাছপালা ও উদ্ভিদ আল্লাহ তাআলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। বেঁচে থাকার বিশেষ উপকরণ অক্সিজেনের জোগান দেয় গাছ। মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত, রুটি আসে ধান, গম থেকে। শস্য থেকে পাই নানারকম তেল। মসলাপাতির সরবরাহ আসে উদ্ভিদজগৎ থেকে। গাছপালা কতটা উপকারী তা বলে শেষ করা যাবে না। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও ওষুধের জন্য মানুষ গাছপালার ওপর নির্ভরশীল। গাছ না থাকলে আকাশ ভরে উঠত অনিষ্টকর কার্বন ডাই-অক্সাইডে। এর ফলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলত। মানুষ, পাখি ও প্রাণীকুল ধ্বংস হয়ে যেত।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ الۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰهَا وَ اَلۡقَیۡنَا فِیۡهَا رَوَاسِیَ وَ اَنۡۢبَتۡنَا فِیۡهَا مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَهِیۡجٍ تَبۡصِرَۃً وَّ ذِکۡرٰی لِکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ‘আর পৃথিবীকে আমরা প্রসারিত করেছি এবং তাতে পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি সব ধরনের নয়নাভিরাম উদ্ভিদরাজি। প্রত্যেক বিনীত ব্যক্তির জন্য, যা চাক্ষুষ জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ।’ (সুরা কাফ: ৭-৮)
বিজ্ঞাপন
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- فَلۡیَنۡظُرِ الۡاِنۡسَانُ اِلٰی طَعَامِهٖۤ اَنَّا صَبَبۡنَا الۡمَآءَ صَبًّا ثُمَّ شَقَقۡنَا الۡاَرۡضَ شَقًّا فَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡهَا حَبًّا وَّ عِنَبًا وَّ قَضۡبًا وَّ زَیۡتُوۡنًا وَّ نَخۡلًا وَّ حَدَآئِقَ غُلۡبًا وَّ فَاکِهَۃً وَّ اَبًّا مَّتَاعًا لَّکُمۡ وَ لِاَنۡعَامِکُمۡ ‘অতএব, মানুষ একবার লক্ষ করুক তার খাদ্যের দিকে। আমরা (কিভাবে তাদের জন্য) বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকি। অতঃপর ভূমিকে ভালোভাবে বিদীর্ণ করি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করি খাদ্যশস্য, আঙুর ও শাক-সবজি, জয়তুন ও খর্জুর, ঘন পল্লবিত উদ্যানরাজি এবং ফল-মূল ও ঘাস-পাতা। তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর ভোগ্যবস্তু হিসেবে।’ (সুরা আবাসা: ২৪-৩২)
আরও পড়ুন: রোগীর সেবা করলে যে পুরস্কার পাবেন
তাই গাছপালা মানুষ ও প্রাণীকুলের জন্য মহান আল্লাহর উপহারস্বরূপ। আমাদের উচিত গাছের প্রতি যত্নশীল হওয়া। আর বৃক্ষরোপণ করা বড়ই মহৎ কাজ। একটি চারা হলেও রোপণ করার নির্দেশ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, যদি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ও এসে যায়, আর তোমাদের হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তাহলে বসা অবস্থায় থাকলে দাঁড়ানোর আগেই যেন সে তা রোপণ করে দেয়। (মুসনাদ আহমদ: ১৩০০৪; আল আদাবুল মুফরাদ: ৪৭৯; মুসনাদে বাজজার: ৭৪০৮)
বৃক্ষরোপণের সওয়াব চলমান থাকে। যাকে বলা হয় সদকায়ে জারিয়া বা প্রবহমান সওয়াব। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, মানুষের মৃত্যুর পর তার কবরে সাতটি নেক আমলের সওয়াব চলমান থাকে। ১. যে ব্যক্তি (উপকারী) ইলম শিক্ষা দিল বা ২. খাল-নালা প্রবাহিত করল অথবা ৩. কূপ খনন করল বা ৪. ফলবান বৃক্ষরোপণ করল অথবা ৫. মসজিদ নির্মাণ করল বা ৬. কোরআনের উত্তরাধিকারী বানাল অথবা ৭. এমন সুসন্তান রেখে গেল, যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। (সহিহুত তারগিব: ৭৩)
বিজ্ঞাপন
অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, যে মুসলমান কোনো বৃক্ষ রোপণ করে কিংবা বীজ বপন করে, তারপর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু ভক্ষণ করে, তাহলে এর বিনিময়ে তার জন্য একটি সদকার সওয়াব আছে। (বুখারি: ২১৩৭; মুসলিম: ১৫৫৩)
আরও পড়ুন: কল্যাণকর বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন
হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যেকোনো মুসলিম ফলজ বৃক্ষ রোপণ করবে তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয় তা তার জন্যে দানস্বরূপ, যা কিছু চুরি হয় তাও দানস্বরূপ, বন্য জন্তু যা খেয়ে নেয় তাও দানস্বরূপ। পাখি যা খেয়ে নেয় তাও দানস্বরূপ। আর যে কেউ যেকোনোভাবে এ থেকে (উপকার) গ্রহণ করে তাও তার জন্যে দানস্বরূপ। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৬০)
বিনা প্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। মহানবী (স.) অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন করাকে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে কুল বৃক্ষ কর্তন করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (আবু দাউদ: ৫২৩৯)
বৃক্ষ নিধন আল্লাহর ক্রোধের কারণ। যারা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করবে, তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন সে ফিরে যায় (অথবা নেতৃত্বে আসীন হয়), তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্য ও প্রাণী বিনাশের চেষ্টা করে। অথচ আল্লাহ অশান্তি পছন্দ করেন না।’ (সুরা বাকারা: ২০৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গাছপালার যত্ন নেওয়ার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

