ধর্ম ডেস্ক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
সালাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। সুস্থ-অসুস্থ, ভ্রমণ কিংবা অন্য যেকোনো অবস্থায় সামর্থ্য অনুযায়ী সালাত আদায় করা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের দায়িত্ব। অসুস্থতার কারণে সালাতের দায়িত্ব রহিত হয় না। তবে শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ইসলাম সহজতা দিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, তা না পারলে বসে, যদি তাও না পারো তাহলে শুয়ে।’ (সহিহ বুখারি: ১১১৭)
এ হাদিসে অসুস্থ ব্যক্তির সালাত আদায়ের মূলনীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ যে অবস্থায় যেভাবে সালাত আদায় করা সম্ভব, সেভাবেই তা আদায় করতে হবে।
অসুস্থ হলেও যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা সম্ভব হয় এবং এতে রোগ বেড়ে যাওয়ার বা সুস্থ হতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে দাঁড়িয়েই সালাত আদায় করতে হবে। কারণ, কিয়াম (দাঁড়িয়ে সালাত আদায়) ফরজ সালাতের একটি মূল রুকন। তাই সক্ষম ব্যক্তি অকারণে বসে সালাত আদায় করতে পারবেন না। (সহিহ বুখারি: ১১১৭; আল হিদায়া: ১/৭৮)
আরও পড়ুন: নামাজে সুরা মেলানো: ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা
বর্তমানে অনেক অসুস্থ ব্যক্তি চেয়ারে বসে সালাত আদায় করেন। যাদের জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা কষ্টকর, কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ বা নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দাঁড়ালে রোগ বেড়ে যাওয়ার বা সুস্থ হতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী চেয়ারে বসে সালাত আদায় করতে পারবেন। তবে রুকু ও সেজদা স্বাভাবিকভাবে আদায় করার সক্ষমতা থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই আদায় করতে হবে। আর ইশারায় সালাত আদায় করলে সামনে টেবিল, বালিশ বা অন্য কোনো বস্তু রেখে তাতে মাথা ঠেকানোর প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি: ১১১৭; রদ্দুল মুহতার: ২/৫৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/২৭৩)
যদি বসেও রুকু-সেজদা করা সম্ভব না হয়, তাহলে ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে রুকুর তুলনায় সেজদার সময় মাথা কিছুটা বেশি ঝুঁকাতে হবে।
বসাও সম্ভব না হলে কেবলামুখী হয়ে শুয়ে ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করবেন। মাথা সামান্য উঁচু করে এমনভাবে শোয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে মুখ কেবলার দিকে থাকে। মাথার ইশারাই রুকু ও সেজদার জন্য যথেষ্ট। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/২৭৩)
আরও পড়ুন: ইশারায়ও নামাজ পড়তে অক্ষম হলে ফিদিয়া দিতে হয় কি?
অসুস্থ ব্যক্তি নিজে অজু করতে না পারলে অন্যের সাহায্যে অজু করতে পারবেন।
অসুস্থতার কারণে শরীর বা কাপড় পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে এবং সাহায্য করার মতো কেউ না থাকলে, যতটুকু সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে ওই অবস্থাতেই সালাত আদায় করবেন। অপারগতার কারণে সালাত ত্যাগ করা যাবে না।
ইসলাম মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী বিধান দিয়েছে। তাই অসুস্থতার কারণে সালাত আদায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে, কিন্তু সালাতের দায়িত্ব রহিত হয় না। যে অবস্থায় যেভাবে সালাত আদায় করা সম্ভব, সেভাবেই তা আদায় করতে হবে।
সালাত শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই অসুস্থ অবস্থাতেও সামর্থ্য অনুযায়ী সালাত আদায় করে এ সম্পর্ক অটুট রাখার চেষ্টা করা একজন মুসলিমের দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ১১১৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/২৭৩; আল হিদায়া: ১/৭৮