ধর্ম ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
মানুষ মাত্রই ভুল করে। কখনো না কখনো গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার জন্য তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন। কেউ নিজের ভুল উপলব্ধি করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে এলে, ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং সেই ভুল থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
তাওবা শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার নাম নয়। সত্যিকারের তাওবা হলো গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন (তাওবা) করো।’ (সুরা হুদ: ৩)
কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে আলেমরা তাওবা কবুল হওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও করণীয় উল্লেখ করেছেন।
তাওবার প্রথম শর্তই হলো গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। যে পাপের জন্য তাওবা করা হচ্ছে, তা অবিলম্বে বর্জন করতে হবে। গুনাহ চালিয়ে যেতে যেতে প্রকৃত তাওবা হয় না।
তাওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার নাম নয়। নিজের গুনাহের জন্য অন্তর থেকে অনুতপ্ত হতে হবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘অনুতপ্ত হওয়াই হলো তাওবা।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)
তাওবার অন্যতম শর্ত হলো, ভবিষ্যতে একই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার আন্তরিক সংকল্প করা। মানুষ দুর্বলতার কারণে পরে আবার ভুল করে ফেলতে পারে। কিন্তু তাওবার সময় তার নিয়ত ও সংকল্প হতে হবে, সে আর ইচ্ছাকৃতভাবে সেই গুনাহে ফিরবে না।
আরও পড়ুন: নিয়মিত তওবা-ইস্তেগফার যেভাবে বদলে দেয় জীবনের গতিপথ
গুনাহ যদি অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই যথেষ্ট নয়। যার হক নষ্ট হয়েছে, তার প্রাপ্য ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
লোকলজ্জা, শাস্তির ভয়, সামাজিক চাপ বা দুনিয়াবি কোনো স্বার্থে পাপ বর্জন করাকে প্রকৃত তাওবা বলা যায় না। তাওবার উদ্দেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
যে পরিবেশ বা সঙ্গ বারবার গুনাহের দিকে টেনে নেয়, তা থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। সৎ মানুষের সান্নিধ্য ও ভালো পরিবেশ তাওবার ওপর অটল থাকতে সহায়তা করে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘বন্ধুরাই সেদিন একে অন্যের শত্রুতে পরিণত হবে, মুত্তাকিরা ছাড়া।’ (সুরা জুখরুফ: ৬৭)
যেসব বস্তু বা মাধ্যম মানুষকে গুনাহের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো পরিহার করা উচিত। তাওবার পর এমন পরিবেশ ও উপকরণ থেকে দূরে থাকাই উত্তম, যা আবারও পাপের দিকে টেনে নিতে পারে।
আরও পড়ুন: গুনাহ ছাড়তে চাইলে খারাপ সঙ্গ ও পরিবেশ বদলানো জরুরি
গুনাহের পর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা সুন্নাহ।
হাদিসে এসেছে, ‘গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর কেউ যদি উত্তমরুপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তাআলা তার ওই গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫২১)
তাওবার পর বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেবেন।’ (সুরা ফুরকান: ৭০)
তাওবা করতে দেরি করা উচিত নয়। মৃত্যুর আগে এবং কিয়ামতের বড় আলামত হিসেবে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার আগে পর্যন্ত তাওবার সুযোগ রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত্যুর গড়গড়া ওঠার আগে আল্লাহর কাছে তাওবা করবে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২৫৩)
তাওবা করার পর আবার কোনো ভুল হয়ে গেলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। মানুষ হিসেবে ভুল হতেই পারে। আন্তরিকভাবে আবারও আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে। মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত তাওবার সুযোগ উন্মুক্ত থাকে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২) তাই কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
তথ্যসূত্র: সুরা হুদ: ৩; সুরা বাকারা: ২২২; সুরা ফুরকান: ৭০; সুরা জুখরুফ: ৬৭; ইবনে মাজাহ: ৪২৫২, ৪২৫৩; সুনানে আবু দাউদ: ১৫২১; সহিহ মুসলিম: ২৭০৩