ধর্ম ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ইসলামের ইতিহাসে কিছু মানুষের নাম খুব শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। হজরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) তাঁদেরই একজন। নবুয়তের সূচনালগ্নের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি ছিলেন মহানবী (স.)-এর প্রথম সহযাত্রী এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অবলম্বন।
মক্কার প্রভাবশালী সমাজ যখন একে একে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছিল, তখন খাদিজা (রা.) তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নিঃসংকোচে। তিনি সাহস দিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন, নিজের সম্পদ ব্যয় করেছেন এবং প্রতিটি সংকটে অবিচল থেকেছেন। নবীজির প্রতি তাঁর আস্থা কখনো টলেনি। সেই কারণেই ইসলামের শুরুর ইতিহাসে তাঁর অবদান অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত।
উম্মাহাতুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন মহানবী (স.)-এর ওপর ঈমান আনা প্রথম ব্যক্তি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। ঈমান, প্রজ্ঞা, বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ তাঁর জীবন দেড় হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। যুগ বদলেছে, সমাজ বদলেছে, কিন্তু তাঁর জীবন থেকে নেওয়ার মতো শিক্ষা আজও বিন্দুমাত্র কমেনি।
হজরত খাদিজা (রা.) আনুমানিক ৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কোরাইশ বংশের বনু আসাদ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ছিলেন একজন প্রভাবশালী নেতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সম্মানিত ও স্বচ্ছল এক পরিবারেই তাঁর বেড়ে ওঠা।
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী, আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন এবং সংযত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগেই তাঁর সততা, নিষ্কলঙ্ক চরিত্র ও ব্যক্তিগত পবিত্রতা মক্কাবাসীর আস্থা অর্জন করেছিল। সে কারণেই তাঁকে ‘তাহিরা’ তথা ‘পবিত্রা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তৎকালীন আরব সমাজে কোনো নারীর জন্য এমন স্বীকৃতি ছিল অত্যন্ত বিরল।
এই উপাধি শুধু তাঁর সামাজিক মর্যাদার পরিচয় বহন করেনি। মানুষের চোখে তাঁর চরিত্র কতটা নির্ভরযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল, সেটিও স্পষ্ট করেছে। পরবর্তী সময়ে সেই দৃঢ় চরিত্রই তাঁকে ইসলামের সূচনালগ্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ তিনি দক্ষতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। সময়ের প্রয়োজনে ব্যবসার পরিধিও বাড়ান। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপরিচিত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: নারী সাহাবি উম্মে মাবাদের বর্ণনায় নবীজির সৌন্দর্য
সেই সময় অধিকাংশ ব্যবসায়ী নিজেরাই বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে সফরে যেতেন। খাদিজা (রা.) ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত পণ্য পাঠাতেন। এতে ব্যবসা যেমন বিস্তৃত হয়, তেমনি পরিচালনায়ও আসে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা।
তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যের পেছনে ছিল মানুষের যোগ্যতা বিচার করার অসাধারণ ক্ষমতা। তিনি শুধু লাভ-লোকসানের হিসাব করতেন না। একজন মানুষের সততা, আমানতদারি ও দায়িত্ববোধ তাঁর কাছে ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বস্ত মানুষই ছিল তাঁর ব্যবসার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে মক্কার ‘আল-আমিন’ মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি আকৃষ্ট করে। মানুষের মুখে নবীজির সততা ও আমানতদারির কথা শুনে তিনি তাঁকে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন। এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িকভাবে যেমন সুফল বয়ে আনে, তেমনি খুলে দেয় ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। সেই পরিচয় থেকেই শুরু হয় এমন এক সম্পর্ক, যা পরবর্তীকালে ইসলামের ইতিহাসে আদর্শ দাম্পত্যের সর্বোত্তম উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
মক্কাজুড়ে তখন মহানবী (স.)-এর সততা, আমানতদারি ও সত্যবাদিতার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের মুখে মুখে তিনি পরিচিত ‘আল-আমিন’ নামে। সেই আস্থার জায়গা থেকেই হজরত খাদিজা (রা.) তাঁকে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে সিরিয়ায় পাঠান।
সফরশেষে মহানবী (স.) প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য নিয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু লাভের হিসাবের চেয়েও একটি বিষয় খাদিজা (রা.)-কে বেশি মুগ্ধ করেছিল। তা হলো তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও অনন্য চারিত্রিক দৃঢ়তা। ধীরে ধীরে এই শ্রদ্ধা ও আস্থা এক গভীর সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলে।
তৎকালীন আরবের বহু ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিয়ের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মহানবী (স.)-এর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেন ভিন্নভাবে। তিনিই বিয়ের প্রস্তাব পাঠান।
প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় মহানবী (স.)-এর বয়স ছিল ২৫ বছর এবং হজরত খাদিজা (রা.)-এর বয়স ৪০ বছর। তবে তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল না বয়স, সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বস্ততা, সততা এবং উত্তম চরিত্রের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠেছিল এই দাম্পত্য। পরে ইসলামের ইতিহাসে এটি আদর্শ দাম্পত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
আরও পড়ুন: মুসলিম নারীর কর্মজীবন: সাহাবিয়াতদের আদর্শ ও আধুনিক বাস্তবতা
হেরা গুহায় প্রথম ওহি নাজিল হওয়ার পর মহানবী (স.) গভীর বিস্ময়, শঙ্কা ও কাঁপুনি নিয়ে ঘরে ফিরে আসেন। নবুয়তের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে হজরত খাদিজা (রা.) শুধু একজন স্ত্রী ছিলেন না। তিনি হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বিচক্ষণ পরামর্শদাতা এবং সবচেয়ে দৃঢ় সাহসের উৎস।
তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ কখনোই আপনাকে অপমান করবেন না। কারণ আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায় মানুষের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন।’ (সহিহ বুখারি: ৩)
এই কথাগুলো মহানবী (স.)-এর চরিত্র সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধিরই প্রকাশ ছিল এটি। তিনি জানতেন, যে মানুষ সারাজীবন সত্য, ন্যায় ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, আল্লাহ তাঁকে কখনো পরিত্যাগ করবেন না।
এরপর তিনি মহানবী (স.)-কে নিয়ে যান তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের কাছে। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ওয়ারাকা ঘটনার বিবরণ শুনে বলেন, মুহাম্মদের (স.) কাছে যে ফেরেশতা এসেছেন, তিনিই আগের নবীদের কাছেও ওহি নিয়ে এসেছিলেন।
ইসলামের ইতিহাসে এটি ছিল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তে হজরত খাদিজা (রা.)-এর প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও মানসিক দৃঢ়তা ইসলামের প্রথম দিনের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে প্রকাশ পায়।
মহানবী (স.)-এর ওপর ওহি নাজিল হওয়ার পর সর্বপ্রথম তাঁর প্রতি ঈমান আনেন হজরত খাদিজা (রা.)। নবুয়তের দাওয়াত প্রকাশ্যে শুরু হতেই মক্কার প্রভাবশালী নেতারা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ওঠে। সেই কঠিন সময়ে খাদিজা (রা.) নিজের সব সামর্থ্য নিয়ে ইসলামের পাশে দাঁড়ান।
তাঁর সহযোগিতা শুধু আর্থিক ছিল না। তিনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, সম্পদ ও অভিজাত জীবনের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে মহানবী (স.)-এর সংগ্রামকে নিজের সংগ্রাম হিসেবে গ্রহণ করেন। ইসলামের প্রয়োজনে তিনি অকাতরে সম্পদ ব্যয় করেছেন। বিনিময়ে দুনিয়ার কোনো সম্মান বা স্বীকৃতি কামনা করেননি।
আরও পড়ুন: ‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত’ এই কথার ভিত্তি কী?
এরপর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কোরাইশরা বনু হাশিম ও মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করে। তিন বছর ধরে শিয়াবে আবি তালিব উপত্যকায় তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খাদ্য, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকটের মধ্যেও হজরত খাদিজা (রা.) মহানবী (স.)-এর পাশ ছেড়ে যাননি।
সম্মানিত ও স্বচ্ছল পরিবারের একজন নারী হয়েও তিনি স্বেচ্ছায় সেই কষ্টকে বরণ করে নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা।
শিয়াবে আবি তালিবের সেই দিনগুলো আজও তাঁর ধৈর্য, আত্মত্যাগ এবং গভীর ঈমানের উজ্জ্বল সাক্ষ্য হয়ে আছে।
হজরত খাদিজা (রা.)-এর ত্যাগ, বিশ্বস্ততা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মর্যাদা আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই ঘোষণা করেছেন। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে-স্বয়ং আল্লাহ তাঁর প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন।
একদিন জিবরাইল (আ.) মহানবী (স.)-এর কাছে এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ওই যে খাদিজা আসছেন। তাঁর কাছে একটি পাত্র আছে, যাতে কিছু খাবার বা পানীয় আছে। তিনি আপনার কাছে পৌঁছলে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সালাম জানিয়ে দিন। আর তাঁকে জান্নাতে মুক্তাখচিত এমন একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন, যেখানে কোনো কোলাহল বা কষ্ট থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৩৮২০, সহিহ মুসলিম: ২৪৩২)
এই হাদিসে হজরত খাদিজা (রা.)-এর মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম এবং জান্নাতের সুসংবাদ দুটিই তাঁর ঈমান, ত্যাগ ও নিষ্ঠার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। দুনিয়ায় তিনি ইসলামের জন্য নীরবে কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আখেরাতে তাঁর জন্য ঘোষণা করা হয়েছে এমন এক আবাসের, যেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, ক্লান্তি কিংবা কোলাহল।
হজরত খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর মহানবী (স.)-এর জীবনে আরও স্ত্রী এসেছেন। কিন্তু তাঁর স্মৃতি কখনো রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হৃদয় থেকে মুছে যায়নি।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অন্যকোনো স্ত্রীর প্রতি আমার এত ঈর্ষা হয়নি, যতটা হয়েছিল খাদিজা (রা.)-এর প্রতি। কারণ, তিনি সবসময় তাঁর কথা স্মরণ করতেন।’ (সহিহ বুখারি: ৩৮১৮)
এই স্মরণ শুধু কথায় সীমাবদ্ধ ছিল না। মহানবী (স.) কোনো পশু জবাই করলে খাদিজা (রা.)-এর বান্ধবীদের জন্য গোশত পাঠাতেন। তাঁদের প্রতি এই আন্তরিকতা ছিল তাঁর অমলিন ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
কেউ যদি খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করত, মহানবী (স.) দৃঢ় কণ্ঠে বলতেন, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো স্ত্রী দান করেননি। মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছে, তখন সে আমার প্রতি ঈমান এনেছে। মানুষ যখন আমাকে বঞ্চিত করেছে, তখন সে তার সম্পদ দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৪৮৬৪)
আরও পড়ুন: আয়েশা (রা.)-এর অসাধারণ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য
এই কথায় শুধু একজন স্বামীর ভালোবাসাই প্রকাশ পায় না, প্রকাশ পায় একজন নবীর গভীর কৃতজ্ঞতাও। ইসলামের সবচেয়ে কঠিন সময়ে কে তাঁর পাশে অটল ছিলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) তা কখনো ভুলে যাননি।
দেড় হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও হজরত খাদিজা (রা.)-এর জীবন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন, সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতেও ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করা যায়। আবার আদর্শ জীবনসঙ্গী হিসেবে শিখিয়েছেন, একটি সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা নয়; চরিত্র, বিশ্বস্ততা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই তার আসল শক্তি।
সংকটের সময় তিনি অভিযোগ করেননি, সাহস জুগিয়েছেন। নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভাবেননি, সত্যের পথে ব্যয় করেছেন সম্পদ ও সামর্থ্য। এ কারণেই তাঁর জীবন শুধু মুসলিম নারীদের নয়, প্রত্যেক মানুষের জন্য দায়িত্ববোধ, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতার এক অনন্য উদাহরণ।
হজরত খাদিজা (রা.)-এর নাম ইসলামের ইতিহাসে উচ্চারিত হয় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে। তিনি ছিলেন মহানবী (স.)-এর প্রথম বিশ্বাসী, প্রথম সহযাত্রী এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। মানুষ যখন রাসুলুল্লাহ (স.)-কে অস্বীকার করেছে, তিনি বিশ্বাস করেছেন। মানুষ যখন বিরোধিতা করেছে, তিনি সাহস জুগিয়েছেন। আর যখন ইসলামের পথ কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন নিজের সম্পদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও জীবন উৎসর্গ করেছেন সত্যের জন্য।
ঈমান, প্রজ্ঞা, বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়নি। বরং প্রতিটি যুগেই তাঁর জীবন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়- ইতিহাসের বড় পরিবর্তনের পেছনে অনেক সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এমন একজন মানুষ, যার দৃঢ়তা অন্যদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৩, ৩৮১৮, ৩৮২০; সহিহ মুসলিম: ২৪৩২; মুসনাদে আহমাদ: ২৪৮৬৪; সিরাতে ইবনে হিশাম; সিয়ারু আ'লামিন নুবালা; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া; আশ-শামায়িলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ